আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: লিবিয়ার সামরিক বাহিনীতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে। তুরস্কের আকাশে এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন লিবিয়ার চিফ অব জেনারেল স্টাফ মোহাম্মদ আল-হাদ্দাদসহ দেশটির পাঁচজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা। তুরস্কের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানা গেছে, দুর্ঘটনার ঠিক আগমুহূর্তে বিমানটিতে বৈদ্যুতিক ত্রুটির কথা জানানো হয়েছিল।
তুরস্কের প্রেসিডেন্সির যোগাযোগ অধিদপ্তরের প্রধান বুরহানেত্তিন দুরান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ জানান, ব্যক্তিগত জেট বিমানটি আকাশে থাকাকালীন পাইলট বৈদ্যুতিক সমস্যার (Electrical Failure) কথা জানিয়ে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সেন্টারে জরুরি অবতরণের অনুমতি চেয়েছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, অবতরণের সুযোগ পাওয়ার আগেই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
বিমানটিতে লিবিয়ার সেনাপ্রধান ছাড়াও তার চারজন সফরসঙ্গী এবং তিনজন ক্রু সদস্য ছিলেন। এই দুর্ঘটনায় নিহত অন্য শীর্ষ কর্মকর্তারা হলেন:
স্থলবাহিনীর প্রধান, জেনারেল আল-ফিতৌরি ঘারিবিল।
সামরিক উৎপাদন কর্তৃপক্ষের প্রধান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদ আল-কাতাওয়ি।
সেনাপ্রধানের উপদেষ্টা, মুহাম্মদ আল-আসাওয়ি দিয়াব।
সামরিক আলোকচিত্রী, মুহাম্মদ ওমর আহমেদ মাহজুব।
লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ দবেইবা এক বিবৃতিতে আল-হাদ্দাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “এটি একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এবং দেশ ও সেনাবাহিনীর জন্য এটি অপূরণীয় ক্ষতি।” মোহাম্মদ আল-হাদ্দাদ পশ্চিম লিবিয়ার শীর্ষ সামরিক কমান্ডার ছিলেন। জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে লিবিয়ার দীর্ঘদিনের বিভক্ত সেনাবাহিনীকে একীভূত করার প্রচেষ্টায় তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিলেন।
সফরের উদ্দেশ্য: তুরস্কের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লিবিয়ার এই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলটি দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরক্ষা বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নিতে আঙ্কারায় যাচ্ছিল। তুরস্কের কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






