সারা বিশ্বের চোখ এখন ভূমধ্যসাগরের দিকে, যেখানে পাল তোলা নৌকার বহর এগিয়ে চলেছে গাজায় মানবিক সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে। এই বহরে অংশ নিয়েছেন কয়েকশত যুদ্ধবিরোধী সাহসী মানুষ—তাদের লক্ষ্য, অবরুদ্ধ গাজার অসহায় মানুষদের কাছে চিকিৎসা, খাদ্য, ওষুধ এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া এবং তাদের দাবির সাথে নিজেদের সংহতি প্রকাশ করা।
কিন্তু এই মানবিক অভিযাত্রার মাঝেই ইসরাইলি বাহিনী হামলা চালিয়েছে একাধিক নৌকায়। কয়েকটি নৌকা আটকে দেওয়া হয়েছে, আরোহীদের অনেককে আটক করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বন্দিদের মধ্যে আছেন আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতনামা সাংবাদিক, সাহিত্যিক, গবেষক ও চলচ্চিত্র নির্মাতারা, যারা মানবতার স্বার্থে এই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় শরিক হয়েছেন।
বিশ্বজুড়ে এই ঘটনায় তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইতিমধ্যে ইসরাইলের এ ধরনের পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক অধিকারের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেছে। বিভিন্ন দেশে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে সংহতির ঢেউ।
বাংলাদেশ থেকে অংশ নেওয়া আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলোকচিত্রী ও মানবাধিকার কর্মী ড. শহিদুল আলম বলেছেন, “এই অভিযাত্রা কোনো দেশের বিরুদ্ধে নয়, বরং মানবতার পক্ষে দাঁড়ানোর শপথ। আমরা গাজায় মানুষের কাছে শুধু খাবার বা ওষুধ নিয়ে যাচ্ছি না, আমরা নিয়ে যাচ্ছি আশা ও সংহতি। ইসরাইলি বাহিনী আমাদের বাধা দিচ্ছে, কিন্তু তারা আমাদের মনোবল ভাঙতে পারবে না। আমরা জানি, সত্যের পাশে দাঁড়ালে বিশ্ব আমাদের কণ্ঠস্বর শুনবেই।”
তবুও ভয় বা দমননীতি এই বহরকে থামাতে পারেনি। যারা এখনো সমুদ্রে আছেন, তারা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ—এই অভিযান মানবতার জয়গান, এক অটল সংগ্রাম। ভূমধ্যসাগরের ঢেউ পেরিয়ে এগিয়ে চলেছে নৌকা—যেখানে প্রতিটি পাল, প্রতিটি মানুষের মুখচ্ছবি বহন করছে এক অমোঘ বার্তা: “মানবিকতার বিরুদ্ধে কোনো প্রাচীর টিকে থাকতে পারে না।”
লেখক: খ ম হারূন, লেখক ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব