বাংলাফ্লো প্রতিবেদক
ঢাকা: বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুবসমাজের প্রত্যাশা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। একই সঙ্গে আঞ্চলিক পর্যায়ে উচ্চশিক্ষায় সহযোগিতা বাড়াতে তিনি দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাকে (সার্ক) পুনরুজ্জীবিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘দক্ষিণ এশিয়ার উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পথনির্দেশনা’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী আঞ্চলিক সম্মেলনের (সার্চে-২০২৬) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “তরুণরা কেন অস্ত্রের মুখে দাঁড়িয়ে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিল—তাদের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা কী ছিল তা বোঝার চেষ্টা না করলে একটি বড় সুযোগ নষ্ট হবে।” তিনি শহীদ স্কুলছাত্র শাহরিয়ার খান আনাসের মায়ের কাছে লেখা চিঠির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এই তরুণদের নিজস্ব চিন্তা ও মনন আছে, যা দেশের পুরোনো কাঠামোকে ভেঙে দিয়েছে।
বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার সমালোচনা করে নোবেলজয়ী এই অর্থনীতিবিদ বলেন, “শিক্ষা ব্যবস্থা মৌলিকভাবে চাকরিকেন্দ্রিক, যা আমি ভুল বলে মনে করি। মানুষ জন্মগতভাবেই সৃজনশীল। চাকরিনির্ভর শিক্ষা সেই সৃজনশীল মানুষকে দাসে পরিণত করছে।” তিনি শিক্ষার্থীদের চাকরিপ্রার্থী না হয়ে উদ্যোক্তা ও পরিবর্তনের কারিগর হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
প্রধান উপদেষ্টা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “আঞ্চলিক সহযোগিতার এমন আয়োজন সার্কের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সার্ককে আজ প্রায় ভুলে যাওয়া হয়েছে।” তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সার্ক পুনরুজ্জীবনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তরুণরা মনে করে দেশের সমস্যার মূল সংবিধানে নিহিত। তাই ভবিষ্যৎ সংবিধান নির্ধারণে গণভোটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, শ্রেণিকক্ষে এসব বিষয় পড়ানো না হলেও তরুণরা রাজনীতি সচেতন হয়ে উঠেছে এবং ভবিষ্যতে তারা সংসদ সদস্য বা শিক্ষামন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব নিতে পারে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






