বিনোদন ডেস্ক
ঢাকা: জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান তার আসন্ন চলচ্চিত্র ‘ওসিডি’ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নিজের অভিনয়ের ভেতরের এক অদ্ভুত মনস্তাত্ত্বিক লড়াই ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, অভিনয়ে নিখুঁত হওয়ার এক তীব্র নেশা বা ‘ওসিডি’ তার মধ্যে সবসময় কাজ করে। প্রতিটি চরিত্রকে আলাদাভাবে ফুটিয়ে তোলার চ্যালেঞ্জ নিতে গিয়ে প্রায়ই তিনি মানসিক চাপের চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে যান। নিজেকে সাধারণ মানুষ বলে সান্ত্বনা দিতে চাইলেও তার মন মানতে চায় না; সবসময় মনে হয় অভিনয় যেন একঘেয়ে হয়ে যাচ্ছে। এই অতৃপ্তিই তাকে প্রতিনিয়ত নতুন করে নিজেকে ভাঙতে ও গড়তে সাহায্য করে।
এবারের সিনেমায় জয়া এমন একটি সংবেদনশীল চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যে শৈশবে যৌন শোষণের শিকার হয়েছিল। চরিত্রটির গভীরতা বুঝতে তাকে ‘পিডোফিলিয়া’ বা শিশুদের প্রতি যৌন আসক্তি নিয়ে বিস্তর পড়াশোনা করতে হয়েছে। জয়া আক্ষেপ করে বলেন, বাংলা সিনেমায় পিডোফিলিয়ার মতো গুরুতর বিষয় নিয়ে তেমন কোনো কাজ হয় না। বিশ্বজুড়ে আলোচিত ‘এপস্টিন ফাইল’ প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, শিশুদের দেখে যাদের মনে স্নেহ বা মায়ার বদলে যৌন আকাঙ্ক্ষা জাগে, তারা মূলত জঘন্য মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত। শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলো আড়াল না করে সামনে আনা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
অভিনয়ের বাইরে ব্যক্তিগত জীবন ও মাতৃত্ব নিয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন এই গুণী অভিনেত্রী। তিনি জানান, সন্তান জন্ম না দিয়েও তিনি দত্তক নেওয়ার মাধ্যমে মা হতে চান। তবে বর্তমান সমাজব্যবস্থা ও পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা তাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধা দিচ্ছে। জয়ার মতে, একটি শিশুকে পৃথিবীতে আনার আগে তার জন্য নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা সবচেয়ে জরুরি। কিন্তু মানুষ এখন এতটাই আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে যে, একটি শিশুর বেড়ে ওঠার মতো সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশের অভাব বোধ করেন তিনি।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ






