আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে যাঁকেই নিয়োগ দেওয়া হোক না কেন, তাঁকে হত্যার প্রকাশ্য হুমকি দিয়েছে ইসরায়েল। বুধবার (৪ মার্চ) ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এক কঠোর বিবৃতিতে জানান, নতুন নেতা ইসরায়েল ধ্বংসের পরিকল্পনা অব্যাহত রাখলে তাঁকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হবে। ইসরায়েলের এই নজিরবিহীন ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে আরও ব্যক্তিগত এবং ভয়াবহ পর্যায়ের দিকে নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ তাঁর বিবৃতিতে স্পষ্ট জানান, নতুন নিযুক্ত নেতা যদি ইসরায়েল ধ্বংসের পরিকল্পনা এগিয়ে নেন এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ মুক্ত বিশ্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ান, তবে তিনি ইসরায়েলের ‘নির্মূল তালিকার’ প্রধান লক্ষ্যবস্তু হবেন। তিনি কোথায় লুকিয়ে আছেন বা তাঁর নাম কী, সেটি ইসরায়েলের কাছে কোনো বিষয় নয়।
খামেনির মৃত্যুর পর এখন পর্যন্ত নতুন কোনো নেতার নাম ঘোষণা করেনি তেহরান। তবে ইসরায়েলের এই আগাম হুমকি থেকে ধারণা করা হচ্ছে, তারা মূলত ইরানের নেতৃত্ব পর্যায়ে শূন্যতা তৈরি করে দেশটিকে অভিভাবকহীন করার কৌশল গ্রহণ করেছে। ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সম্ভাব্য নেতাদের গতিবিধি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
কাটজ দাবি করেন, ইরানের সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করতে ইসরায়েল বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একযোগে কাজ করছে। এর উদ্দেশ্য কেবল সামরিক সক্ষমতা চূর্ণ করা নয়, বরং এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করা যাতে ইরানি জনগণ নিজেরাই তাদের বর্তমান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে অনুপ্রাণিত হয়।
গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানে খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি চলছে। ইসরায়েলের এই ‘এলিমিনেশন নীতি’ বা নির্মূল অভিযানকে ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো ধ্বংসের বড় ধরনের সামরিক চাল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






