ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিতে যাত্রা করা গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার অন্তত ১৩টি জাহাজ আটকে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। একই সঙ্গে ওই নৌবহরে থাকা সুইডেনের খ্যাতনামা জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থুনবার্গসহ একাধিক মানবাধিকার কর্মীকেও আটক করেছে তারা।
আজ ২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছে, ইসরায়েলি নৌবাহিনী ত্রাণবাহী একটি জাহাজে অনুপ্রবেশ করে সেটিকে জোরপূর্বক নিজেদের বন্দরে নিয়ে যায়। এসময় ওই নৌযানে থাকা সবাইকে আটক করে তারা।
ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফ্লোটিলার কিছু জাহাজকে থামানো হয়েছে এবং সবাই নিরাপদে আছে। গ্রেটা থুনবার্গ ও অন্যান্য কর্মীরা সুস্থ ও নিরাপদ অবস্থায় রয়েছেন। তাদের প্রকাশিত এক ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, একটি নৌযানের ডেকে বসে আছেন গ্রেটা থুনবার্গ ও আরও কয়েকজন অধিকারকর্মী। চারপাশে তাদের ঘিরে রেখেছে সশস্ত্র ইসরায়েলি সেনারা।
ফ্লোটিলার আয়োজকরা জানিয়েছেন, তারা আন্তর্জাতিক জলসীমায় আইন মেনে চলছিলেন। তবু ইসরায়েলি বাহিনী সেখানে প্রবেশ করে নৌযানগুলোকে আটক করে। এই ঘটনাকে তারা অপহরণ আখ্যা দিয়েছেন। আয়োজকদের দাবি, আমরা কোনো আইন ভাঙিনি, বরং অবৈধ হলো ইসরায়েলের গাজা অবরোধ ও চলমান জাতিগত নিধন।
প্রায় ৪৬টি নৌযান নিয়ে গঠিত এই বহরে অংশ নিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইনজীবী, সংসদ সদস্য, মানবাধিকারকর্মী ও জলবায়ু আন্দোলনকারীরা। তাদের লক্ষ্য ছিল অবরুদ্ধ গাজায় সরাসরি মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং ইসরায়েলের আরোপিত অবরোধের অবসান ঘটানো।
ইসরায়েলের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে নিন্দা ও বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় ইতালির রাজধানী রোম, আর্জেন্টিনার বুয়েনোস আইরেস, তুরস্কের ইস্তাম্বুলসহ আরও কয়েকটি শহরে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানায়।


