লাইফ স্টাইল ডেস্ক
ঢাকা: বাঙালি পরিবারগুলোতে ইসবগুল একটি অতি পরিচিত নাম, যা যুগ যুগ ধরে হজমশক্তি বৃদ্ধি ও পেটের নানা সমস্যার সমাধানে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে অন্ত্রের স্বাস্থ্য বা ‘গাট হেলথ’ নিয়ে সচেতনতা বাড়ায় নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে উদ্ভিদজাত এই উপাদানটি। ইসবগুল মূলত ‘প্ল্যান্টাগো ওভাটা’ নামক উদ্ভিদের বীজের বাইরের আবরণ বা ভুসি। দেখতে হালকা রঙের ও স্বাদহীন এই ভুসি পানিতে বা দুধে মেশালে দ্রুত পানি শোষণ করে ফুলে ওঠে এবং জেলের মতো আঠালো আকার ধারণ করে। পুষ্টিবিদদের মতে, ইসবগুল প্রায় পুরোটাই দ্রবণীয় ফাইবারে গঠিত এবং এতে ক্যালোরি, চর্বি বা শর্করার পরিমাণ অত্যন্ত নগণ্য। যদিও এতে ভিটামিন বা খনিজের উপস্থিতি কম, তবুও পাচনতন্ত্রে এর কার্যকারিতা একে অনন্য করে তুলেছে। তবে এর সঠিক উপকারের জন্য পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি, অন্যথায় এটি পেটে ফুলে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না।
ইসবগুলের স্বাস্থ্য উপকারিতা বহুমুখী। এটি মলের পরিমাণ ও আর্দ্রতা বাড়িয়ে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে যেমন সাহায্য করে, তেমনি জেলের মতো গঠন তৈরি করে আলগা মলকে দৃঢ় করতেও ভূমিকা রাখে। এছাড়া এটি এলডিএল (LDL) বা খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সহায়ক, কারণ এর দ্রবণীয় ফাইবার পিত্ত অ্যাসিডের সঙ্গে আবদ্ধ হতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও এটি উপকারী; খাবারের পর কার্বোহাইড্রেট শোষণ ধীর করে এটি রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখে। পাশাপাশি, ক্যালোরি ছাড়াই পেট ভরিয়ে রাখার অনুভূতি দেওয়ায় ওজন নিয়ন্ত্রণেও ইসবগুল বেশ কার্যকরী।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






