আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো মাত্রার হামলা, তা যত সীমিতই হোক না কেন, তার ‘ভয়ঙ্কর’ জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর সীমিত মাত্রায় হামলার কথা বিবেচনা করছেন—এমন মন্তব্যের পর সোমবার তেহরানের পক্ষ থেকে এই কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যেকোনো আঘাতকে সরাসরি ‘আগ্রাসন’ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং আত্মরক্ষার স্বাভাবিক অধিকার থেকে এর কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
কূটনৈতিক তৎপরতা ও পরমাণু আলোচনা:
সুইজারল্যান্ডে বৈঠক: ওমানের মধ্যস্থতায় মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের পরোক্ষ আলোচনার দ্বিতীয় দফা শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার পরবর্তী দফার আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রতিনিধি দল: কেবল পরমাণু কর্মসূচির ওপর জোর দেওয়া এই আলোচনায় ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করছেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবস্থান: ইইউর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস সংঘাত এড়িয়ে কূটনৈতিক সমাধানের জোরালো আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, “এই অঞ্চলে আমাদের আরেকটি যুদ্ধ দরকার নেই।”
আত্মসমর্পণ বিতর্ক ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি: ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন দূত উইটকফ মন্তব্য করেন যে, মার্কিন সামরিক শক্তি মোতায়েনের মুখেও ইরান কেন ‘আত্মসমর্পণ’ করছে না, তা নিয়ে ট্রাম্প ভাবছেন। এর কড়া জবাবে বাঘায়ি বলেন, ইরানিরা তাদের ইতিহাসে কখনোই আত্মসমর্পণ করেনি। এদিকে, দেশে সামরিক পদক্ষেপের হুমকির পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও বেশ উত্তপ্ত। দমন-পীড়নের মাঝেই রোববার বিভিন্ন শহরে জেন-জিদের নেতৃত্বে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে।
ক্রমবর্ধমান এই যুদ্ধ ও সংঘাতের আশঙ্কায় ভারত, সুইডেন, সার্বিয়া, পোল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া তাদের নাগরিকদের দ্রুত ইরান ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






