আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের এক মাস পূরণ হয়েছে গত ২৮ মার্চ। এই এক মাসে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ৭ দেশ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, ওমান, বাহরাইন ও জর্ডানে মোট ৫ হাজার ৪৭১ বার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। মূলত এসব দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করেই এসব হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। তবে বেশ কয়েকবার এই সাত দেশের সরকারি, অর্থনৈতিক ও জ্বালানি স্থাপনাও ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের শিকার হয়েছে।
তুরস্কের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সি জিসিসি এবং জর্ডানের সরকারি একাধিক উৎসের বরাত দিয়ে সোমবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, জর্ডান বাদে বাকি ৬ দেশ মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর জোট গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি)-এর সদস্য। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আঘাত এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর। দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর একটি বিমানঘাঁটি এবং একটি নৌঘাঁটি রয়েছে। এ দুই ঘাঁটি এবং আমিরাতের সরকারি অবকাঠামো ও জ্বালানি স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে গত এক মাসে মোট ৪১৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ১৫টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১ হাজার ৯১৪টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে ইরান।
এই হামলার তালিকায় আমিরাতের পরেই দ্বিতীয় স্থানে আছে কুয়েত। কুয়েতে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৩টি সেনাঘাঁটি আছে। এসব ঘাঁটি এবং কুয়েতের অবকাঠামোগত ও জ্বালানি স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ৩০৯টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ৬১৬টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে ইরান। তৃতীয় স্থানে থাকা কাতারকে লক্ষ্য করে গত এক মাসে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী ২০৬টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৯৩টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এরপরই আছে বাহরাইন, যেখানে গত এক মাসে আঘাত হেনেছে ১৭৪টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩৯১টি ড্রোন।
এছাড়া সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি, মার্কিন সেনাবাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনা এবং সৌদির অর্থনৈতিক ও জ্বালানি স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে গত এক মাসে ৫২টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১ হাজার ৬টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে ইরান। এই একই সময়সীমার মধ্যে জর্ডানে ২৬২টি ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন এবং ওমানে ১৯টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে ইরানি প্রতিরক্ষা বাহিনী।
বাংলাফ্লো/এফআইআর



