আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থী সরকার চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মোভাহেদি আজাদের দপ্তর থেকে শনিবার (১০ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে বিক্ষোভরত জনতাকে ‘মোহারেিব’ বা ‘আল্লাহর শত্রু’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সংবিধানের ১৮৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী যারা এই বিক্ষোভে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন, তাদের শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড। ইরানি সংবিধান মতে, কোনো গোষ্ঠী বা সংগঠন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র অবস্থান নিলে তাদের ‘আল্লাহর শত্রু’ গণ্য করা হয় এবং এর একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।
অর্থনৈতিক ধস ও মুদ্রার ভয়াবহ অবমূল্যায়নের প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট থেকে এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। বর্তমানে ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের মান ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫-তে গিয়ে ঠেকেছে, যা বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। খাদ্য, বস্ত্র ও চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাওয়া সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে এলে তা দ্রুত ৩১টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং বর্তমানে পুরো দেশ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
বিক্ষোভ দমনে সরকার ইন্টারনেট ও মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি এবার সেনাবাহিনী এবং এলিট ফোর্স ‘ইসলামিক রিপাবলিক গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি)-কে মাঠে নামানো হয়েছে। শনিবার রাতে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সরকার কঠোর হাতে এই আন্দোলন দমনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






