তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
ঢাকা: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ক্লিনিক্যালি আসক্ত’ হওয়া সম্ভব নয় বলে দাবি করেছেন ইনস্টাগ্রামের প্রধান অ্যাডাম মোসেরি। যুক্তরাষ্ট্রে মেটার বিরুদ্ধে দায়ের করা এক আলোচিত মামলায় সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। ২০ বছর বয়সী এক তরুণী, যাকে আদালতে ‘কেলি’ নামে উল্লেখ করা হচ্ছে, তিনি মেটার বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করেছেন। তার অভিযোগ, কিশোর-কিশোরীদের দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে আটকে রাখতে কোম্পানিটি ইচ্ছাকৃতভাবে আসক্তিকর সব ফিচার তৈরি করেছে, যার ফলে তার মানসিক স্বাস্থ্যের চরম অবনতি হয়েছে।
আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার সময় মোসেরি স্বীকার করেন যে ইনস্টাগ্রামের ‘সমস্যাজনক ব্যবহার’ হতে পারে, তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘আসক্তি’ বলা যায় না। তার মতে, ব্যবহারের এই মাত্রা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়। বাদীপক্ষের আইনজীবী যখন প্রশ্ন করেন যে মুনাফার জন্য কিশোরদের টার্গেট করা হয় কি না, তখন মোসেরি তা সরাসরি অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, কিশোর ব্যবহারকারীদের থেকে তাদের আয় তুলনামূলকভাবে কম, কারণ তাদের ব্যয়যোগ্য আয় সীমিত এবং বিজ্ঞাপনে সাড়া দেওয়ার হারও কম। ২০০৮ সালে ফেসবুকে যোগ দেওয়া এবং ২০১৮ সাল থেকে ইনস্টাগ্রামের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মোসেরি জোর দিয়ে জানান, ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তাই তার প্রধান অগ্রাধিকার।
তবে বাদীপক্ষের দাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তারা বলছে, ‘ইনফিনিট স্ক্রল’, ‘অটোপ্লে’ ও ‘লাইক’ বাটনের মতো ফিচারগুলো তরুণদের দীর্ঘ সময় অ্যাপে আটকে রাখে এবং অন্যের স্বীকৃতি পাওয়ার মানসিক চাহিদাকে পুঁজি করে কাজ করে। এছাড়া অ্যাপের ‘বিউটি ফিল্টার’ কিশোর-কিশোরীদের দেহ-ভাবনা বা বডি ইমেজ বিকৃত করতে পারে বলেও অভিযোগ তোলা হয়। শুনানিতে উল্লেখ করা হয়, ওই তরুণী একদিনে ১৬ ঘণ্টার বেশি সময় ইনস্টাগ্রামে কাটিয়েছিলেন, যাকে মোসেরিও ‘সমস্যাজনক ব্যবহার’ বলে স্বীকার করেছেন। এদিকে মেটার পক্ষ থেকে পাল্টা দাবি করা হয়েছে যে, বাদীর মানসিক স্বাস্থ্যসংকটের পেছনে মূলত তার পারিবারিক ও ব্যক্তিগত নানা জটিলতা দায়ী, এর জন্য প্ল্যাটফর্মকে এককভাবে দায়ী করা যায় না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যে ঠিক কতটা প্রভাব ফেলছে—সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই মামলাটি এখন জুরি বোর্ডের বিবেচনায় রয়েছে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






