মৃত্যুদণ্ড হলেও হাসিনা নিয়ে অবস্থান বদলাচ্ছে না ভারত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: জুলাই-আগস্ট গণহত্যার দায়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সাজা ঘোষণার পরও, ভারত সরকার তাঁকে আশ্রয় দেওয়ার অবস্থান পরিবর্তন করছে না। ভারতের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা বিবিসিকে আভাস দিয়েছেন, এই রায়ের ফলে হাসিনাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়ার কোনো প্রশ্ন উঠছে না এবং দিল্লি প্রত্যর্পণ চুক্তির আইনি ‘ফাঁকফোকর’ কাজে লাগিয়ে এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করবে।
গত বছরের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুতির পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে যে ‘সাময়িক’ আশ্রয় পেয়েছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের পরও ভারতের সেই অবস্থান অপরিবর্তিতই থাকছে। এর অর্থ হলো, ভারত সরকার তাঁকে বিচারের জন্য বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে—এমন সম্ভাবনা নেই।
তবে এখন ভারতের ওপর চাপ বাড়বে, কারণ দেশটি এতদিন অপরাধী প্রত্যর্পণ চুক্তির অনুরোধ নিয়ে প্রায় এক বছর ধরে চুপ করে ছিল। গত বছরের ডিসেম্বরেই শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশ ভারতকে কূটনৈতিক পত্র বা ‘নোট ভার্বাল’ পাঠিয়েছিল। ভারত প্রাপ্তি স্বীকার করলেও, আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো অবস্থান জানায়নি।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ভারত এখন এই বিষয়ে মুখ খুলতে বাধ্য হবে, তবে তারা চুক্তির বিদ্যমান ধারাগুলো ব্যবহার করবে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তিতে বেশ কিছু ধারা আছে, যা অনুরোধ-প্রাপক দেশ (ভারত) তা খারিজ করার অধিকার রাখে।
ভারতের কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, তারা এই ধারাটি ব্যবহার করতে পারেন। অর্থাৎ, অনুরোধ-প্রাপক দেশের (ভারত) মনে যদি হয় অভিযোগগুলো কেবল ন্যায়বিচারের স্বার্থে বা সরল বিশ্বাসে আনা হয়নি, তাহলেও তারা সেটি নাকচ করার ক্ষমতা রাখে। ভারত অনায়াসেই বলতে পারে, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে সঠিক ও সুষ্ঠু বিচার পাবেন বলে তারা মনে করছে না।
চুক্তিতে বলা আছে, যদি কোনো অপরাধ রাজনৈতিক প্রকৃতির হয়, তবে অনুরোধ খারিজ করা যাবে। যদিও হত্যা, গণহত্যা ও গুমের অভিযোগগুলো ফৌজদারি আইনে পড়ে, তবুও ভারত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট দেখিয়ে এই ধারাটিকেও কাজে লাগাতে পারে।
গত বছরের ডিসেম্বরে যখন বাংলাদেশের আদালতে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা সবে শুরু হয়েছিল, তখনো ভারত অনানুষ্ঠানিকভাবে যুক্তি দেখিয়েছিল যে তিনি বাংলাদেশে ন্যায্য বিচার পাবেন না—এখন দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পর সেই যুক্তি আরও জোরালো হবে।বাংলাফ্লো/এফআইআর






