ধর্ম ও জীবন ডেস্ক
ঢাকা: পবিত্র রমজান মাসে সেহরি খাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। রাসুলুল্লাহ (সা.) সেহরিকে বরকতময় বলে উল্লেখ করেছেন। তবে রমজানে অনেকেই একটি সাধারণ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সম্মুখীন হন—যদি স্বপ্নদোষ বা স্বামী-স্ত্রীর মিলনের ফলে গোসল ফরজ হয় এবং ঘুম থেকে ওঠার পর সেহরির সময় খুব কম থাকে, তবে গোসল না করে সেহরি খেলে রোজা হবে কি না?
ইসলামি শরিয়ত ও হাদিসের আলোকে এর সুস্পষ্ট সমাধান রয়েছে। উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) ও হজরত উম্মে সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস (সহিহ বুখারি) অনুযায়ী, রাসুল (সা.) কখনো কখনো ফরজ গোসল অবস্থায় সুবহে সাদিক বা ফজরের সময় পর্যন্ত অতিবাহিত করতেন। এরপর তিনি গোসল করে রোজা রাখতেন। অর্থাৎ, সময় স্বল্পতা থাকলে গোসলের আগে সেহরি খেয়ে নিলে রোজার কোনো ক্ষতি হবে না এবং রোজা শুদ্ধ হবে।
ইসলামি বিধানে মূলত চারটি কারণে গোসল ফরজ হয়—যৌন মিলন বা যেকোনো উপায়ে বীর্যপাত, নারীদের মাসিক ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়া, সন্তান প্রসবের পর রক্তস্রাব (নেফাস) বন্ধ হওয়া এবং মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানো। তবে মনে রাখতে হবে, গোসল ফরজ থাকা অবস্থায় সেহরি খাওয়া জায়েজ হলেও, বিনা কারণে গোসল করতে দেরি করে এক ওয়াক্ত নামাজের সময় পার করে দেওয়া মারাত্মক গুনাহ। তীব্র লজ্জা বা গোসলের পরিবেশ নেই মনে করাকে শরিয়ত ওজর হিসেবে গ্রহণ করে না। রাসুল (সা.) সতর্ক করে বলেছেন, যার এক ওয়াক্ত নামাজ কাজা হয়ে গেল, তার যেন পরিবার ও সম্পদ সবই ধ্বংস হয়ে গেল। তাই সেহরি খাওয়ার পর ফজরের ওয়াক্ত শেষ হওয়ার আগেই দ্রুত গোসল করে নামাজ আদায় করা বাধ্যতামূলক।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






