দীর্ঘ সময় পর আজ রাতেই মিলছে এক বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য দেখার সুযোগ। একই আকাশে দেখা যাবে দুটি উজ্জ্বল ধূমকেতু এবং ওরিয়নিড উল্কাবৃষ্টি।
স্পেস ডট কম জানিয়েছে, আজ ২১ অক্টোবর মঙ্গলবার রাত ১০টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত আকাশে টেলিস্কোপে শুধু ধূমকেতু ও উল্কাবৃষ্টি নয়, পাশাপাশি দেখা যাবে সৌরজগতের দুটি বৃহৎ গ্রহ—শনি ও বৃহস্পতি। দুটি ধূমকেতুর সঙ্গে বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে যুক্ত হচ্ছে ওরিয়নিড উল্কাবৃষ্টি। ২০ ও ২১ অক্টোবর রাতজুড়ে এই উল্কাবৃষ্টি দেখা যাবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ২০টি উল্কা দৃশ্যমান হতে পারে।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই রাতে আকাশে উজ্জ্বল হয়ে উঠবে দুটি ধূমকেতু—‘কমেট সি/২০২৫ আর২ (সোয়ান আর২)’ এবং ‘কমেট সি/২০২৫ এ৬ (লেমন)’। সোয়ান আর২ ধূমকেতুটি প্রথম দেখা যায় গত ১২ সেপ্টেম্বর। ইউক্রেনের শৌখিন জ্যোতির্বিদ ভ্লাদিমির বেজুগলি নাসার সোয়ান যন্ত্রের তোলা ছবিতে এটি আবিষ্কার করেন। এটি একটি দীর্ঘ-পর্যায়ের ধূমকেতু, যা প্রায় ২২ হাজার বছর পর সূর্যের কাছে আসে।
ধূমকেতুটির লেজের দৈর্ঘ্যও বিস্ময়কর—আকাশে পাশাপাশি পাঁচটি পূর্ণিমার চাঁদ রাখলে যতটা জায়গা হয়, এর লেজ ঠিক ততটাই চওড়া। আগামীকাল ২১ অক্টোবর এটি পৃথিবীর সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থান করবে, তখন পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব থাকবে প্রায় ৪ কোটি কিলোমিটার। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, এটি খালি চোখেও দেখা যেতে পারে।
রাজধানীর ধানমন্ডির কলাবাগান ক্রীড়া চক্র মাঠে বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে বিনামূল্যে টেলিস্কোপে এই দৃশ্য দেখার সুযোগ পাবেন সাধারণ মানুষ। আরও এক সৌভাগ্যের বিষয় হলো, ২১ অক্টোবর থাকবে অমাবস্যা—অর্থাৎ, আকাশে থাকবে না চাঁদের আলো। ফলে নিকষ কালো আকাশে ধূমকেতু ও উল্কাবৃষ্টি দেখার সুযোগ হবে আরও স্পষ্ট ও চমকপ্রদ।
বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, ধূমকেতুদের আচরণ অনিশ্চিত। সূর্যের তাপের কাছে এসে এগুলো ভেঙেও যেতে পারে, কিংবা উজ্জ্বল না-ও হতে পারে। তবু ধূমকেতু দুটি যদি অক্ষত অবস্থায় থাকে, তবে ২০ থেকে ২৩ অক্টোবরের মধ্যে এগুলো দেখার সময় সবচেয়ে উপযুক্ত হবে।এগুলো খালি চোখে দেখা না গেলে ছোট একটি টেলিস্কোপ বা বাইনোকুলার দিয়েও সহজেই দেখা সম্ভব।


