কঙ্গোতে ভয়াবহ খনি দুর্ঘটনা: গোলাগুলির পর হুড়োহুড়ি, সেতু ধসে নিহত ৩২
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় লুয়ালাবা প্রদেশের একটি আধা-শিল্প তামা ও কোবাল্ট খনিতে সেতু ধসে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৫ নভেম্বর) কালান্দো খনি এলাকায় এই ঘটনায় এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৩২ জন খনি শ্রমিকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন প্রাদেশিক কর্মকর্তারা। তবে উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো আশঙ্কা করছে, নিহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
দুর্ঘটনাটির কারণ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, ভারী বৃষ্টিপাত এবং ভূমিধসের ঝুঁকির কারণে স্থানটিতে প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকলেও, অবৈধ খনি শ্রমিকরা জোর করে খনিতে প্রবেশ করেন।
তবে, কঙ্গোর কারিগরি খনি সংস্থা (SAEMAPE) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা সামরিক কর্মীদের পক্ষ থেকে গোলাগুলি শুরু হওয়ার পরই খনি শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জীবন বাঁচাতে শ্রমিকরা দ্রুত একটি সরু, অস্থায়ী সেতুর দিকে ছুটে গেলে, অতিরিক্ত ওজনের কারণে সেতুটি ধসে পড়ে। এতে শ্রমিকরা “একজনের ওপর আরেকজন পড়ে” হতাহত হন।
লুয়ালাবার প্রাদেশিক অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী রয় কাউম্বা মায়োন্ডে ৩২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। তবে এসএএমএপিই (SAEMAPE) জানিয়েছে, এই ঘটনায় ৪৯ জন মারা যেতে পারেন এবং ২০ জনেরও বেশি গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
মানবতাবাদী সংগঠনগুলো (The Initiative for the Protection of Human Rights) এই ঘটনায় সামরিক বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং একটি পূর্ণাঙ্গ, স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, ডিআর কঙ্গো বিশ্বের বৃহত্তম কোবাল্ট উৎপাদনকারী দেশ। এই ধরনের অনিয়ন্ত্রিত খনিগুলোতে দুর্বল অবকাঠামো, নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব এবং ভূমিধসের মতো কাঠামোগত ব্যর্থতার কারণে প্রতি বছরই বহু শ্রমিকের মৃত্যু হয়।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






