বাংলাফ্লো ডেস্ক
ঢাকা: আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। ১৯৭১ সালের এই দিনে তৎকালীন রমনার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক যুগান্তকারী ভাষণ দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তবে, ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত বছর এবং এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন এক প্রেক্ষাপটে দিনটি সামনে এসেছে। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার সরকারিভাবে দিবসটি পালিত হচ্ছে না।
১৯৭১ সালের এই দিনে লাখো মানুষের সমাবেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ বাঙালির স্বাধীনতা ও জাতীয়তাবোধ জাগরণের মহাকাব্য হিসেবে বিবেচিত এই ভাষণকে ২০১৭ সালে ‘ওয়ার্ল্ড ডকুমেন্টারি হেরিটেজ’ বা ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ইউনেসকো।
ওই ভাষণে বাঙালির দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পটভূমি তুলে ধরার পাশাপাশি দেশবাসীর করণীয় সম্পর্কে দিকনির্দেশনা ছিল। ভাষণের পর স্বাধীনতাকামী মানুষ চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে ।
সাধারণভাবে দিনটি জনপ্রিয় হলেও ২০২০ সালের আগে এটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দিবস হিসেবে বিবেচনা করা হতো না। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে হাইকোর্টের নির্দেশে এবং অক্টোবরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পরিপত্রের মাধ্যমে ৭ মার্চকে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। আওয়ামী লীগ আমলে ২০২১ সাল থেকে এটি সরকারিভাবে ব্যাপক আয়োজনে পালিত হতে থাকে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে । এই পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে, ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর অন্তর্বর্তী সরকার ৭ মার্চসহ মোট আটটি জাতীয় দিবস আর উদযাপন না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর




