স্পোর্টস ডেস্ক
ঢাকা: আরও একবার ইনজুরি টাইমের অভিশাপে পুড়ল বাংলাদেশ। দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেও জয়ের হাসি নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারল না স্বাগতিকরা। হামজা চৌধুরীর জাদুকরী বাইসাইকেল কিক ও পেনাল্টি থেকে করা জোড়া গোলে এগিয়ে থেকেও, শেষ মুহূর্তের ভুলে নেপালের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছে বাংলাদেশ।

আসন্ন ভারত ম্যাচের প্রস্তুতি হিসেবে জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই প্রীতি ম্যাচে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ম্যাচের ৩২ মিনিটে রক্ষণভাগের ভুলে গোল হজম করে স্বাগতিকরা। ডিফেন্ডার সাদ উদ্দিন নেপালি ফরোয়ার্ডকে মার্ক করতে ব্যর্থ হলে এবং সোহেল রানা বল ক্লিয়ার করতে না পারলে, রোহিত চাদ জোরালো শটে নেপালকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেন। প্রথমার্ধে বাংলাদেশের খেলা ছিল অগোছালো, ফিনিশিংয়ের অভাবে গোলও পাওয়া হয়নি।

বিরতির পর দৃশ্যপট বদলে দেন হামজা চৌধুরী। কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরা দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে সোহেল রানার বদলে সামিত সোমকে নামান। খেলা শুরুর প্রথম মিনিটেই (৪৬ মিনিট) ফাহিমের ক্রস ও জামাল ভূঁইয়ার সেট-আপ থেকে বক্সের ভেতর শূন্যে ভেসে বাইসাইকেল কিকে অবিশ্বাস্য এক গোল করেন হামজা। স্টেডিয়ামভর্তি দর্শক এই গোলে উল্লসিত হয়ে ওঠে।
এর মাত্র চার মিনিট পর (৫০ মিনিট), ফরোয়ার্ড রাকিব বক্সে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় বাংলাদেশ। স্পট কিক থেকে ঠান্ডা মাথায় গোল করে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন হামজা। এটি ছিল বাংলাদেশের জার্সিতে তাঁর চতুর্থ গোল।

ম্যাচের ৮০ মিনিটে হামজাকে উঠিয়ে অভিষিক্ত কিউবা মিচেলকে নামান কোচ। হামজা মাঠ ছাড়ার পরই নেপাল ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে ৫ মিনিট ইনজুরি টাইম দেন রেফারি। ইনজুরি সময়ের তৃতীয় মিনিটে (৯০+৩), কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে হেড করে অনন্ত তামাং নেপালকে সমতায় ফেরান। গোলরক্ষক মিতুল মারমা ও ডিফেন্ডারদের কিছুই করার ছিল না।

হংকং ম্যাচের মতো এবারও শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে জয়বঞ্চিত হলো বাংলাদেশ। ১৮ নভেম্বর ভারতের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে রক্ষণের এই দুর্বলতা নিঃসন্দেহে ভাবাবে কোচ ক্যাবরেরাকে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






