বাংলাফ্লো প্রতিবেদক
ঢাকা: রাজধানীর গুলশানের কালাচাঁদপুর এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে সাদিয়া রহমান মিম (২৭) নামে এক তরুণীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি পেশায় একজন বারের ড্যান্সার ছিলেন এবং পাশাপাশি ওই এলাকায় একটি বিউটি পার্লার পরিচালনা করতেন। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের রুমমেট নুসরাতকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৮ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে কালাচাঁদপুর পশ্চিম পাড়ার ক-৮৯ নম্বর বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি তালাবদ্ধ ফ্ল্যাট থেকে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। মিম টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী এলাকার মৃত শহীদ আলীর মেয়ে।
নিহতের বড় বোন শাহিদা গুলশান থানায় দায়ের করা হত্যা মামলার (মামলা নং-৩৭) এজাহারে উল্লেখ করেন, মিম তার রুমমেট নুসরাতের সঙ্গে ওই ফ্ল্যাটে থাকতেন। গত ১৬ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মিমের সঙ্গে তার সর্বশেষ কথা হয়। ওইদিন রাতে ফোন দিলে মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন ১৭ জানুয়ারি সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে শাহিদা রুমমেট নুসরাতকে ফোন দেন। নুসরাত জানান, তিনি দুই দিন আগেই গ্রামের বাড়ি চলে গেছেন এবং মিমের ব্যাপারে কিছু জানেন না।
সন্দেহ হওয়ায় ১৭ জানুয়ারি বিকেলে টাঙ্গাইল থেকে ঢাকায় এসে শাহিদা দেখেন ফ্ল্যাটটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ। পরে বাড়ির মালিক ও প্রতিবেশীদের সহায়তায় তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে মিমের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। তিনি জানান, ১৬ জানুয়ারি দুপুর ১২টা থেকে ১৭ জানুয়ারি রাত ৯টার মধ্যে যেকোনো সময় খুনিরা তাকে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মারুফ আহমেদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। মরদেহের গলার অর্ধেক অংশ কাটা ছিল। এছাড়া মুখ, মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোনো অস্ত্র উদ্ধার করা যায়নি।
নিহতের বোনজামাই নূর নবী জানান, মিমের ব্যক্তিগত জীবনে দুবার বিয়ে হয়েছিল এবং উভয় স্বামীর সঙ্গেই বিচ্ছেদ হয়ে যায়। তার প্রথম পক্ষের ‘মারিয়া’ নামে ৫ বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ দাফনের জন্য গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলে নিয়ে যাওয়া হবে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






