আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর অবশেষে অস্ত্র সমর্পণে রাজি হয়েছে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাস। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজ অ্যারাবিক-এর এক প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি গোপন সমঝোতার আওতায় হামাস তাদের অস্ত্র ও সুড়ঙ্গের মানচিত্র হস্তান্তর করতে শুরু করেছে। বিনিময়ে তারা গাজার রাজনীতিতে টিকে থাকার ও প্রশাসনিক ক্ষমতার অংশীদার হওয়ার নিশ্চয়তা পেয়েছে।
হামাস ও ফিলিস্তিনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এই সমঝোতার মূল বিষয়গুলো হলো:
অস্ত্র সমর্পণ: হামাস তাদের কিছু অস্ত্র এবং গাজার গোপন সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্কের মানচিত্র মার্কিন কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করেছে।
রাজনৈতিক পুনর্বাসন: এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চয়তা দিয়েছে যে, হামাস গাজায় রাজনীতি করতে পারবে। এমনকি গাজার প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগে হামাসের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
সিকিউরিটি চেক: তবে প্রশাসনে বা পুলিশে যোগ দিতে হলে সংশ্লিষ্টদের অবশ্যই ‘ইসরায়েলি-আমেরিকান সিকিউরিটি চেক’ বা নিরাপত্তা ছাড়পত্র পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
নিরাপত্তা গ্যারান্টি: অস্ত্র সমর্পণের পর হামাসের যেসব নেতা বিদেশে পাড়ি জমাবেন, তাদের বিদেশের মাটিতে কখনো লক্ষ্যবস্তু (Targeted Assassination) করা হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
হামাসকে নির্মূল করার ঘোষণা দেওয়া ইসরায়েল এই সমঝোতায় মোটেও খুশি নয়। বিশেষ করে গাজার প্রশাসনে হামাসের পুনরায় অন্তর্ভুক্তি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর তীব্র আপত্তি রয়েছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা ইসরায়েলের এই আপত্তিকে আমলে নিচ্ছেন না বলে জানা গেছে।
গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা যুদ্ধ অবসানে ২০ দফার যে শান্তি পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছিলেন, এটি তারই অংশ। ওই পরিকল্পনায় হামাসের অস্ত্র সমর্পণ, টেকনোক্র্যাট সরকার গঠন এবং ‘বোর্ড অব পিস’ গঠনের কথা বলা হয়েছিল।
ইতোমধ্যে গাজায় টেকনোক্র্যাট সরকার ও ‘বোর্ড অব পিস’ তাদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেছে। এখন কেবল হামাসের পক্ষ থেকে অস্ত্র সমর্পণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






