বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও বৃহত্তম পরিবেশ বিষয়ক পুরস্কার দ্য আর্থশট প্রাইজ ২০২৫-এর ‘ফিক্স আওয়ার ক্লাইমেট’ ক্যাটাগরিতে ফাইনালিস্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে দেশের স্বনামধন্য সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা- ফ্রেন্ডশিপ।
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে অগ্রণী ভূমিকা ও টেকসই সমাধান প্রদর্শনের স্বীকৃতি হিসেবে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই পরিবেশ পুরস্কারের জন্য ফ্রেন্ডশিপকে মনোনীত করা হয়েছে।
রোববার যুক্তরাজ্যভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান আর্থশট ফাউন্ডেশন অনলাইনে দ্য আর্থশট প্রাইজ ২০২৫ ঘোষণা দেয়।
আর্থশট ফাইনালিস্ট হওয়ার মাধ্যমে আগামী এক বছর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে ফ্রেন্ডশিপ-এর ম্যানগ্রোভ সংক্রান্ত কার্যক্রম তুলে ধরা, জলবায়ু ও পরিবেশ বিষয়ক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কে ফ্রেন্ডশিপ-কে গুরুত্বসহকারে উপস্থাপন করা, আন্তর্জাতিক নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগের তৈরিতে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করবে দ্য আর্থশট প্রাইজ কর্তৃপক্ষ।
ফ্রেন্ডশিপ কাজ করছে একটি সমন্বিত পদ্ধতিতে—স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো, আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, আইন ও সরকারি সেবা প্রাপ্তি, ম্যানগ্রোভ পুনরুদ্ধার ও উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র পুনর্গঠন—সবই বাংলাদেশের সবচেয়ে দূরবর্তী ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য।
পানির স্তরের বৃদ্ধি মোকাবিলা করতে সক্ষম উঁচু ভিত্তির পুনর্গঠনযোগ্য আবাসন ও স্কুল নির্মাণের পাশাপাশি ফ্রেন্ডশিপ বাংলাদেশের দক্ষিণ উপকূলবর্তী সুন্দরবনের নিকটে ২০০ হেক্টরেরও বেশি এলাকায় ৬ লক্ষ ৫০ হাজার ম্যানগ্রোভ গাছ রোপণ করেছে যা সর্বসাকুল্যে ৬২ কিলোমিটারের বেশি। এই ম্যানগ্রোভ বন শুধু প্রাণঘাতী ঘূর্ণিঝড়ের ভয়ঙ্কর প্রভাব থেকে গ্রামগুলোকে রক্ষা করছে না, বরং এখন পর্যন্ত ১ লাখ ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।
২০০২ সালে রুনা খান প্রতিষ্ঠিত ফ্রেন্ডশিপ, একটি মাত্র ভাসমান হাসপাতাল থেকে যাত্রা শুরু করে আজ নিবেদিতপ্রাণ সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা প্রতিষ্ঠান, যা প্রতিবছর সরাসরি ৭৫ লাখেরও বেশি মানুষকে সেবা প্রদান করে। এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি ২ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, ৮৩ লাখ দিনের জরুরি খাদ্য সহায়তা বিতরণ করেছে এবং উপকূলীয় অঞ্চলে প্রতিদিন ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ পানীয় নিশ্চিত করছে।
আর্থশট প্রাইজ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি প্রিন্স উইলিয়াম বলেন, মাত্র পাঁচ বছরে আর্থশট প্রাইজ দেখিয়ে দিয়েছে যে আমাদের পৃথিবীর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর সমাধান ইতিমধ্যেই বিদ্যমান এবং আমাদের নাগালের মধ্যেই রয়েছে।
ফ্রেন্ডশিপ-এর প্রতিষ্ঠাতা রুনা খান বলেন, আর্থশট প্রাইজ ফাইনালিস্ট হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া আমাদের জন্য এক বিশাল সম্মান। প্রথম ভাসমান হাসপাতাল থেকে শুরু করে ম্যানগ্রোভ পুনরুদ্ধার ও বন্যা সহনশীল গ্রাম নির্মাণ—আমরা প্রমাণ করেছি যে কমিউনিটি-নেতৃত্বাধীন, প্রকৃতিভিত্তিক সমাধান জীবন বদলে দিতে পারে।
এ বছর প্রায় ২,৫০০ জনের মধ্য থেকে ৭২টি দেশের ৫৭৫ জন নমিনেটরের মাধ্যমে জমা দেওয়া মনোনয়ন থেকে চূড়ান্ত বাছাই করা হয়েছে। এদের মধ্য থেকে ১৫ জন ফাইনালিস্টকে নির্বাচিত করা হয়েছে। এদের মধ্য থেকে ৫ জন বিজয়ী হবেন, যাদের নাম ঘোষণা হবে ৫ নভেম্বর, রিওতে অনুষ্ঠিত আর্থশট প্রাইজ অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে।
২০২০ সালে ব্রিটেনের প্রিন্স উইলিয়াম দ্য আর্থশট প্রাইজের সূচনা করেন। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উদ্ভাবনী সমাধান খুঁজে বের করে জলবায়ু ও পরিবেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অবদান রাখছে এই পুরস্কার।
