বিনোদন ডেস্ক
ঢাকা: বাংলাদেশের সঙ্গীতাঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র নিভে গেল। বরেণ্য লোকসংগীতশিল্পী ও মহান মুক্তিযুদ্ধের কণ্ঠযোদ্ধা মলয় কুমার গাঙ্গুলী আর নেই। সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাত ৯টা ২০ মিনিটের দিকে রাজধানীর ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
তবলাশিল্পী পল্লব স্যানাল গণমাধ্যমকে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মলয় কুমার দীর্ঘদিন ধরেই ফুসফুসের জটিলতা ও হৃদরোগে ভুগছিলেন। সোমবার দুপুর ২টায় তাঁর মরদেহ জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমঘরে রাখা হয়েছে। শিল্পীর একমাত্র মেয়ে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী। তিনি দেশে ফিরলেই শেষকৃত্যের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নেত্রকোনার সন্তান মলয় কুমার ১৯৪৬ সালে কেন্দুয়ার মোজাফফরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালে তিনি কণ্ঠকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। তাঁর সুর করা ও গাওয়া কালজয়ী গান ‘যদি রাত পোহালে শোনা যেত, বঙ্গবন্ধু মরে নাই’ আজও বাঙালির হৃদয়ে গেঁথে আছে।
বর্ণাঢ্য কর্মজীবন ও অবদান
মুক্তিযুদ্ধ: একাত্তরে বাড়ি ছেড়ে কলকাতায় গিয়ে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে যোগ দেন। বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডে থেকে নিয়মিত গান লিখতেন ও সুর করতেন।
কালজয়ী গান:
এস এম আবদুল গণি বোখারীর লেখা ‘ওরে ও বাঙালি আর কতকাল থাকবি ঘুমেতে হইয়া বিভোর’ (স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র)।
‘গুরু উপায় বলো না’ (চলচ্চিত্র: পুত্রবধূ)।
‘যদি রাত পোহালে শোনা যেত, বঙ্গবন্ধু মরে নাই’ (সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী)।
তাঁর মৃত্যুতে সঙ্গীতাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহযোদ্ধা ও শিল্পী তিমির নন্দী ফেসবুকে লিখেছেন, “আমরা দিনে দিনে খুব একা হয়ে যাচ্ছি। এই শূন্যতা পূরণ হবার নয়। যেখানে আছেন, ভালো থাকুন, মলয়দা।” এছাড়া দিনাত জাহান মুন্নী এবং ‘ভাওইয়া অঙ্গন’-এর প্রতিষ্ঠাতা একেএম মোস্তাফিজুর রহমানসহ অনেকেই শোক প্রকাশ করেছেন।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






