বাংলাফ্লো প্রতিবেদক
ঢাকা: জুলাই অভ্যুত্থানের পর দীর্ঘ দেড় বছরের বেশি সময় আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে কারাগারে পাঠানো হলো সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় ডিবি পুলিশ তাকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করলেও, আদালত তা নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তার জামিন আবেদনও নাকচ করে দিয়েছেন বিচারক।
ঢাকার মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২০ মিনিটের শুনানি শেষে তাকে হাজতখানায় নেওয়ার সময় আদালত প্রাঙ্গণে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের মধ্যে স্লোগান ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এসময় সিঁড়ি দিয়ে নামানোর সময় ভিড়ের মধ্যে শিরীন শারমিন ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানালেও, দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা দাবি করেন, তিনি পড়েননি; বরং শেষ সিঁড়িতে তার পা কিছুটা বেঁকে গিয়েছিল এবং নারী পুলিশ সদস্যরা তাকে শক্ত করে ধরে রেখেছিলেন।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী সাবেক এই স্পিকারকে ‘ফ্যাসিস্টের সহযোগী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে তিনি গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেন, এজাহারে কেবল নাম থাকা ছাড়া এই ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততাই নেই। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই আজিমপুর সরকারি কলোনিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনে গুলিবর্ষণে মো. আশরাফুল নামের এক ব্যক্তির স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঘটনায় দায়ের করা মামলার ৩ নম্বর আসামি শিরীন শারমিন চৌধুরী। গতকাল রাতেই ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






