স্পোর্টস ডেস্ক
ঢাকা: আইসিসি ইভেন্ট মানেই যেন ভারতের জয়জয়কার আর পাকিস্তানের হাহাকার—কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে আরও একবার সেই চেনা চিত্রনাট্যই মঞ্চস্থ হলো। ভারতের ১৭৬ রানের পাহাড় ডিঙাতে গিয়ে ৬১ রানে মুখ থুবড়ে পড়া পাকিস্তান এখন দিশেহারা। তবে এই শোচনীয় হারের জন্য ভাগ্য বা টসকে নয়, বরং নিজেদের ‘মস্তিষ্কের বিভ্রাট’ আর হঠকারী মানসিকতাকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন পাকিস্তানের হেড কোচ মাইক হেসন।
ম্যাচ পরবর্তী বিশ্লেষণে হেসন অকপটে স্বীকার করলেন, ভারতের রান দেখে তার শিষ্যরা ড্রেসিংরুমেই স্নায়ুচাপে ভুগছিল। তার ভাষায়, ‘‘স্কোরবোর্ডে ভারতের রান দেখে ব্যাটাররা ভেবেছিল শুরু থেকেই বোধ হয় ‘সুপারম্যান’ হয়ে খেলতে হবে!’’ ভারতের সংগ্রহ প্রত্যাশার চেয়ে অন্তত ২৫ রান বেশি ছিল, আর সেই চাপ সামলাতে গিয়েই বাবর আজম, সাইম আইয়ুবরা উইকেটের কন্ডিশন ভুলে অহেতুক শট খেলেছেন। বুমরাহ’র আগুনের সামনে সাইমের অসহায় আত্মসমর্পণ কিংবা মিডল অর্ডারের ধস—সবই ছিল পরিকল্পনার বাইরে গিয়ে খেলার খেসারত।
টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা হলেও হেসন তা উড়িয়ে দিয়েছেন। তার দাবি, পিচের যা চরিত্র ছিল, তাতে আগে বোলিং করাটাই যৌক্তিক ছিল। বল প্রথম ইনিংসে দ্বিগুণ স্পিন করেছে। সমস্যা সিদ্ধান্তে ছিল না, ছিল প্রয়োগে (execution)। দিনের আলোর সঙ্গে রাতের ম্যাচের তুলনা না টেনে তিনি সাফ জানালেন, চাপের মুখে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়রাও যখন পরিকল্পনা ভুলে যায়, তখন ফল এমন হওয়াই স্বাভাবিক।
ভারতের কাছে হেরে পাকিস্তান এখন বড় বিপদে। পয়েন্ট টেবিলে তারা নেমে গেছে যুক্তরাষ্ট্রেরও নিচে (তৃতীয় স্থানে)। সেমিফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখতে আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি কলম্বোর সিংহলিজ স্টেডিয়ামে নামিবিয়ার বিপক্ষে ‘বাঁচা-মরার’ লড়াইয়ে নামতে হবে সালমান আলী আগার দলকে। জটিল সমীকরণের প্যাঁচে না পড়তে চাইলে সেই ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্প নেই।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






