বাংলাফ্লো প্রতিবেদক
ঢাকা: ‘রাস্তায় দোকানদার, হকার এমনকি ভিক্ষুকের কাছ থেকেও তথাকথিত ‘বেসরকারি ট্যাক্স’ বা চাঁদা আদায় করা হয়। ইনসাফের বাংলাদেশে এই চাঁদাবাজি আর চলবে না। টাকার বিনিময়ে আর ইনসাফ বিক্রি হবে না।’
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বরে ঢাকা-১৫ আসনে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসমাবেশে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ১০ দলীয় জোটের সমর্থনে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে তিনি বিএনপি ঘোষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর কড়া সমালোচনা করেন এবং দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর প্রতিশ্রুতির (২ হাজার টাকা প্রদান) সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা ওই রকম কার্ডের কোনো ওয়াদা দিচ্ছি না। দুই হাজার টাকা দিয়ে কি একটা পরিবারের সমস্যার সমাধান হবে? এর মধ্যে আবার ভাগ বসবে কি না, সেই প্রশ্নও আছে। আমরা তরুণদের খয়রাতি অনুদান দিয়ে ভিক্ষুক বানাতে চাই না; বরং তাদের হাতকে দক্ষ ও কর্মক্ষম করে গড়ে তুলতে চাই।’
বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আজ অনেকের মাথায় লাল টুপি দেখছি, যা গত সাড়ে ১৫ বছরে ঝরা রক্তের প্রতীক। আয়নাঘর বানিয়ে বাংলাদেশকে ভয়ের জনপদ করা হয়েছিল। এখানে আয়নাঘর ফেরত ব্যারিস্টার আরমান আছেন, যিনি তার বাবাকে হারিয়েছেন। আমরা গুম ও খুনের বিচার নিশ্চিত করব।’
সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীদের হাতে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক তুলে দেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন:
নাহিদ ইসলাম (ঢাকা-১১, এনসিপি আহ্বায়ক)
ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান (ঢাকা-১৪, আয়নাঘর ফেরত)
সাইফুল আলম খান মিলন (ঢাকা-১২)
কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন (ঢাকা-১৬)
মিরপুরের উন্নয়ন ও শিক্ষা: মিরপুরের স্থানীয় সমস্যা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এলাকার খালগুলো ময়লার ভাগাড় এবং ড্রেনগুলো মশার প্রজনন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। আমরা নির্বাচিত হলে মিরপুরকে বাসযোগ্য করে গড়ে তুলব।’ এছাড়া মনিপুর হাইস্কুলসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগের গৌরবে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম এবং ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম প্রমুখ।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






