আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে মতবিরোধের জেরে ভেস্তে যেতে পারে যেকোনো সমঝোতা আলোচনা। এমন পরিস্থিতিতে এই অঞ্চলকে নতুন কোনো বড় সংঘাতের হাত থেকে বাঁচাতে তুরস্ক সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। মিসর সফর শেষে ফেরার পথে তিনি সাংবাদিকদের জানান, ওমানে শুক্রবার অনুষ্ঠেয় নিম্ন পর্যায়ের পরমাণু আলোচনার পর দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি বৈঠক হলে তা ফলপ্রসূ হতে পারে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা নিয়ে তার ‘অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত’। এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে, তবে বিস্তারিত কিছু বলেননি। ওমানে অনুষ্ঠেয় আলোচনায় ওয়াশিংটন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে এজেন্ডাভুক্ত করতে চাইলেও তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা কেবল পরমাণু কর্মসূচি নিয়েই কথা বলবে। এই মতবিরোধ এবং উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি বিমান হামলার হুমকিতে আলোচনার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। প্রাথমিকভাবে ইস্তাম্বুলে বৈঠকের কথা থাকলেও পরে তা ওমানের মাসকাটে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়।
জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্ৎজ দোহায় এক সংবাদ সম্মেলনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি ইরানকে ‘আগ্রাসন’ বন্ধ করে আলোচনার টেবিলে আসার আহ্বান জানান। অন্যদিকে, চীন ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু শক্তির অধিকারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে বলপ্রয়োগ ও নিষেধাজ্ঞার পথ পরিহারের আহ্বান জানিয়েছে। উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলো আশঙ্কা করছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালে তাদের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো তেহরানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






