শিক্ষা ডেস্ক
ঢাকা: শিক্ষা খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কাজের মূল্যায়ন করে পুরস্কার ও শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে বলে কড়া বার্তা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, বিগত আওয়ামী লীগ ও অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে শিক্ষা খাতে যেসব অনিয়ম, দুর্নীতি ও বদলি বাণিজ্য হয়েছে, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং সচিব রেহানা পারভীন উপস্থিত ছিলেন।
বদলি বাণিজ্য ঠেকাতে অটোমেশন অ্যাপ: প্রশাসনিক দুর্নীতি ও বদলি বাণিজ্য ঠেকাতে অটোমেশন অ্যাপ চালুর পরিকল্পনার কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমরা এখন অটোমেশন সিস্টেম চাইছি। এমন একটি অ্যাপ খোলা হবে যেখানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রেজাল্ট বা যোগ্যতার ভিত্তিতে তদবিরবিহীন বদলি নিশ্চিত করা হবে।” এখন থেকে বদলির নামে কোনো বাণিজ্য হবে না বলেও তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন।
অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্ত: ২০০৯ সাল থেকে ডিজিটাল শ্রেণিকক্ষ তৈরির নামে কোটি কোটি টাকা খরচ হলেও অনেক জায়গায় কাজ না হওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এসব অনিয়ম ও দুর্নীতি আমলে নিয়ে নিরীক্ষণের মাধ্যমে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া, নির্বাচনের আগে ও নির্বাচনের দিন নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন ছাড়াই বিপুলসংখ্যক বদলির পেছনে কোনো অসংগতি বা বাণিজ্য হয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখবে মন্ত্রণালয়।
এনটিআরসিএ, পরীক্ষাকেন্দ্র ও পাঠ্যবই: শিক্ষামন্ত্রী জানান, এনটিআরসিএ-এর কার্যক্রম শৃঙ্খলায় আনতে এবং অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে একটি সেল গঠন করে মনিটরিং করা হবে। এখানে কেউ অন্যায় করে পার পাবে না। নতুন স্কুল অনুমোদনের ক্ষেত্রেও কঠোর যাচাই-বাছাই করা হবে। পরীক্ষায় নকল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় কঠোর থাকবে, তবে তিনি আশা করেন নতুন করে আর নকলবিরোধী অভিযানের প্রয়োজন পড়বে না। এছাড়া, অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে আগামী জানুয়ারিতেই যথাসময়ে শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যবই তুলে দেওয়ার বিষয়েও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বাংলাফ্লো/এফআইআর



