বাংলাফ্লো প্রতিনিধি
ঢাকা: রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা আজ (বুধবার, ১০ ডিসেম্বর) ১৮তম দিনে গড়িয়েছে। ফুসফুসে ইনফেকশন ও শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতা নিয়ে গত ২৩ নভেম্বর থেকে তিনি হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং বর্তমানে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) তাঁর চিকিৎসা চলছে।
চিকিৎসার শুরুর দিকে হাসপাতাল চত্বরে নেতাকর্মীদের ব্যাপক ভিড় থাকলেও এখন সেই চিত্র বদলে গেছে। দলের পক্ষ থেকে সাধারণ রোগী ও স্বজনদের অসুবিধার কথা বিবেচনা করে ভিড় না করার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশনা মেনেই বুধবার সকাল থেকে এভারকেয়ারের সামনে নেতাকর্মীদের জটলা দেখা যায়নি। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের সতর্ক অবস্থান এবং গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
সেখানে উপস্থিত বিএনপি কর্মী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “আগে প্রতিদিন ম্যাডামের খোঁজ নিতে আসতাম। তবে দলীয় নির্দেশনা মেনে এখন আর ভিড় করি না। আজ একটা কাজে এদিকে এসেছিলাম বলে দূর থেকেই খোঁজ নিয়ে চলে যাচ্ছি।”
গত ২৩ নভেম্বর শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তির পর পরীক্ষায় খালেদা জিয়ার ফুসফুসে ইনফেকশন ধরা পড়ে। অবস্থার অবনতি হলে ২৭ নভেম্বর তাঁকে সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকদের সূত্র মতে, সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা এখনো ‘অপরিবর্তিত’ এবং সংকটময়। নিয়মিত তাঁর কিডনি ডায়ালাইসিস চলছে। পাশাপাশি ডায়াবেটিস, লিভার ও ফুসফুসের জটিলতাগুলোর চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে। নানা জটিলতার কারণে তাঁকে আপাতত বিদেশে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, তাই দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের অধীনে দেশেই চিকিৎসা চলবে।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসার সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন তাঁর বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি প্রতিদিনই হাসপাতালে আসা-যাওয়ার মাধ্যমে শাশুড়ির চিকিৎসার খোঁজখবর রাখছেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে সমন্বয় করছেন।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






