বাংলাফ্লো ডেস্ক
ঢাকা: পৌষের দ্বিতীয় সপ্তাহে এসে দেশজুড়ে জেঁকে বসেছে শীত। হিমালয় থেকে আসা শীতল বাতাস আর ঘন কুয়াশার চাদরে মোড়ানো প্রকৃতিতে স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে ৮.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শেষে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ এবং আগামী জানুয়ারি মাসে শীতের প্রকোপ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস: আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, সোম ও মঙ্গলবার সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা আরও সামান্য কমতে পারে। আজ (রোববার) আকাশ আংশিক মেঘলা থাকার পাশাপাশি দুপুর পর্যন্ত ঘন কুয়াশা অব্যাহত থাকতে পারে। চলতি মৌসুমের প্রথম শৈত্যপ্রবাহ ইতিমধ্যে রাজশাহী অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে এই শৈত্যপ্রবাহের আওতা আরও বাড়বে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
বিপর্যস্ত জনজীবন ও স্বাস্থ্যঝুঁকি:
যশোর: টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা (৮.৮ ডিগ্রি) রেকর্ড করা হয়েছে। তীব্র শীতে লালদীঘি পাড়ে শ্রমজীবীদের উপস্থিতি অর্ধেকে নেমে এসেছে। কাজ না পেয়ে অনেকে ফিরে যাচ্ছেন। জ্বর, সর্দি ও ডায়রিয়াসহ ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ বাড়ছে।
রাজশাহী: উত্তরের হিমেল হাওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও নাটোরের জনজীবন। শনিবার মাত্র ৩০ মিনিটের জন্য সূর্যের দেখা মিলেছিল।
রংপুর ও কুড়িগ্রাম: গত এক সপ্তাহ ধরে তীব্র শীতে রংপুরের কর্মজীবী মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছে না। কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে জনজীবন স্থবির।
যোগাযোগ ব্যবস্থায় ধস: ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক, নৌ ও আকাশপথে যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ফেরি চলাচল: দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ঘন কুয়াশার কারণে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১৪ ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। এতে ঘাটে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
লঞ্চ ও নৌযান: বরিশাল, চাঁদপুর ও ভোলার নৌপথে কুয়াশার ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ায় মাঝনদীতে আটকা পড়ে শত শত নৌযান। নিরাপত্তার স্বার্থে বিআইডব্লিউটিএ রাতভর লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়।
ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের দেখা মিললেও তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হচ্ছে না।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






