বাংলাফ্লো প্রতিনিধি
ঢাকা: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিএনপি এমন এক সমন্বয়ের রাজনীতির পাঠশালা, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের আশ্রয় মেলে। তিনি মন্তব্য করেন, জনগণ এখন সচেতন, তাই ‘ধর্মের বিড়ি’ বিক্রি করে আর ভোট চাওয়া যাবে না।
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন আয়োজিত এই সভায় সারাদেশ থেকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতারা অংশ নেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ সদ্য ঘোষিত নির্বাচনী তফসিলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “গণতান্ত্রিক উত্তরণের একটি সফল ঘোষণা গতকাল হয়েছে। এতে অনেকে ভারাক্রান্ত হলেও স্বাগত জানাতে বাধ্য হয়েছে। জনগণের প্রধান প্রত্যাশা ছিল ভোটাধিকার নিশ্চিত করা।”
তিনি তফসিলবিরোধীদের ‘গণতন্ত্রের বিপক্ষ শিবির’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “কেউ কেউ বলেছে ২০২৯ সালে নির্বাচন দিন, কেউ বলেছে আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এদের গণতন্ত্রের সংজ্ঞা আলাদা। এরা নিজেদের মতো করে গণতন্ত্র চায়।”
বক্তব্যে তিনি আওয়ামী লীগের পাশাপাশি নাম না করে অন্য একটি দলের (সম্ভবত ধর্মভিত্তিক রাজনীতি করা দলগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করে) কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “একটি দল আওয়ামী লীগের ভোট পাওয়ার আশায় তাদের বিরুদ্ধে একটি শব্দও উচ্চারণ করে না। গ্রামের ভাষায় বলে, ‘ভাশুরের নাম মুখে নেওয়া যায় না’। তাদের ইতিহাস ১৯৪৭ থেকে ’৭১ পর্যন্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে ছিল। কিছুদিন পর হয়তো বলবে ওরাই একমাত্র মুক্তিযুদ্ধ করেছিল।”
তিনি আরও বলেন, “আওয়ামী লীগের দুর্নীতি, ২৯ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা পাচার এবং গণহত্যার ইতিহাস ভোলা যাবে না। যারা নিজের দেশের নাগরিককে হেলিকপ্টার থেকে গুলি করে হত্যা করেছে, তাদের কুকীর্তি জনগণ যেন ভুলে না যায়।”
অধ্যাপক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের শ্বেতপত্রের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ আমলে যে লুটপাট হয়েছে, তা দিয়ে ২৪টি পদ্মা সেতু বা ১৪টি মেট্রো রেল নির্মাণ করা যেত। ব্যাংকিং খাত থেকে লুট হওয়া অর্থ দিয়ে দুটি শিক্ষা বাজেট বা তিনটি স্বাস্থ্য বাজেট করা যেত।”
সালাহউদ্দিন আহমদ ছাত্রদলের নেতাদের নির্দেশ দেন ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড, হেলথ কার্ড এবং বেকার সমস্যা সমাধানের মতো বিএনপির ৮টি পরিকল্পনা সহজ ভাষায় জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে। তিনি বলেন, “বিএনপি মানেই গণতন্ত্রের বিকল্প নাম। শুধু আবেগী ও ধর্মীয় মিক্সচার মিশ্রিত বড়িকা দিয়ে আমরা নির্বাচনে যাব না, আমরা যাব সুষ্ঠু পরিকল্পনা নিয়ে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং সঞ্চালনা করেন হাবিব উন নবী খান সোহেল।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






