তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
ঢাকা: বর্তমানে দেশের বাজারে বই থেকে শুরু করে ক্রোকারিজ—সবকিছুতেই চলছে অফারের ছড়াছড়ি। এই দৌড়ে পিছিয়ে নেই শখের মোবাইল ফোন, বিশেষ করে আইফোনও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন অনলাইন শপে ‘অবিশ্বাস্য কম দামে’ আইফোন বিক্রির চটকদার বিজ্ঞাপন প্রায়ই চোখে পড়ে। তবে এই সস্তা অফারের আড়ালেই লুকিয়ে থাকতে পারে বড় ধরনের প্রতারণা বা প্রযুক্তিগত ঝুঁকি।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, আইফোনের মতো প্রিমিয়াম ডিভাইসে অস্বাভাবিক ডিসকাউন্ট সাধারণত কোনো না কোনো সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। তাই হুট করে সিদ্ধান্ত না নিয়ে আইফোন কেনার আগে ৮টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
১. অস্বাভাবিক কম দাম: আইফোনের দাম কখনোই বাজারমূল্যের চেয়ে অস্বাভাবিক কম হয় না। খুব বেশি ডিসকাউন্ট দেখলে বুঝতে হবে এতে কোনো ঘাপলা আছে।
২. অনুমোদিত বিক্রেতা: প্রতারণা এড়াতে অ্যাপলের অনুমোদিত রিটেইলার বা বিশ্বস্ত দোকান থেকে ফোন কেনা সবচেয়ে নিরাপদ। এতে অরিজিনাল ডিভাইস ও ওয়ারেন্টি নিশ্চিত হয়।
৩. ব্যাটারি হেলথ: ডিসকাউন্টের ফোনে অনেক সময় পুরনো ব্যাটারি থাকে। কেনার আগে ব্যাটারি হেলথ চেক করুন। এটি ৮৫ শতাংশের ওপরে থাকলে কেনা নিরাপদ।
৪. ডিসপ্লে ও পার্টস যাচাই: অনেক সময় নন-অরিজিনাল ডিসপ্লে বা পার্টস লাগিয়ে ফোন বিক্রি করা হয়। সেটিংসের ‘পার্টস অ্যান্ড সার্ভিস হিস্টোরি’ থেকে এটি যাচাই করে নিন।
৫. নতুন না রিকন্ডিশন্ড: সেটিংসে গিয়ে মডেল নম্বরটি দেখুন। যদি ‘M’ দিয়ে শুরু হয় তবে সেটি নতুন। আর ‘F’, ‘N’ বা ‘R’ থাকলে বুঝবেন সেটি রিফারবিশড বা রিকন্ডিশন্ড। ৬. আইক্লাউড লক: চুরি করা ফোন অনেক সময় কম দামে বিক্রি হয়। ফোনটি রিসেট দেওয়ার পর অ্যাক্টিভেশন লক বা আইক্লাউড লক চাইছে কি না, তা নিশ্চিত হোন।
৭. আইএমইআই (IMEI) চেক: ফোনের বক্সে থাকা সিরিয়াল নম্বরের সঙ্গে সেটিংসের সিরিয়াল নম্বর মিলছে কি না দেখুন এবং অ্যাপলের সাইটে গিয়ে স্ট্যাটাস যাচাই করুন।
৮. পারফরম্যান্স টেস্ট: ক্যামেরা, ফেস আইডি, স্পিকার, টাচ এবং কানেক্টিভিটি ঠিকঠাক কাজ করছে কি না, তা হাতে নিয়ে পরীক্ষা করে তবেই কিনুন।
সামান্য টাকা বাঁচাতে গিয়ে যেন বড় কোনো আর্থিক ক্ষতির মুখে না পড়তে হয়, সেজন্য ক্রেতাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






