বাংলাফ্লো ডেস্ক
ঢাকা: রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পন্টুনে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে তলিয়ে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর ওই বাস দুর্ঘটনার পর নিখোঁজদের সন্ধানে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পদ্মাপাড়ের বাতাস। মর্মান্তিক এই ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।
দৌলতদিয়ায় বাস দুর্ঘটনা ও উদ্ধার অভিযানের বিস্তারিত:
১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার: বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে দুর্ঘটনাটি ঘটে। দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ বাসটিকে টেনে ওপরে তোলে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জন নারী ও ৪ জন পুরুষসহ মোট ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহগুলো গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
উদ্ধার অভিযানের চ্যালেঞ্জ: রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা জানান, তলিয়ে যাওয়া বাসটি নদীর প্রায় ৮০-৯০ ফিট গভীরে চলে গিয়েছিল। বাসের দরজা ও জানালা বন্ধ থাকায় ডুবুরিরা ভেতরে প্রবেশ করতে পারছিলেন না। ফলে উদ্ধারকারী জাহাজের সাহায্যে পুরো গাড়িটিকেই ধীরগতিতে ও সতর্কতার সঙ্গে টেনে তুলতে হয়েছে।
তদন্ত কমিটি গঠন: মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা তদন্তে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছেন। রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মে-কে আহ্বায়ক এবং গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাসকে সদস্য সচিব করে গঠিত এই কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
পদ্মাপাড়ে স্বজনদের আহাজারি: বাসে আনুমানিক ৪৫ জনের মতো যাত্রী ছিলেন, যাদের মধ্যে ৫-৭ জন বাস ডোবার আগেই বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। তবে এখনও বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ যাত্রীদের খোঁজে পদ্মাপাড়ে অপেক্ষমাণ স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে সেখানকার পরিবেশ অত্যন্ত হৃদয়বিদারক হয়ে উঠেছে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর



