বাংলাফ্লো প্রতিনিধি
ঢাকা: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে আগামী জাতীয় নির্বাচনের দিনই গণভোট আয়োজন এবং সংসদের উচ্চকক্ষ গঠনের রূপরেখা ঘোষণা করেছেন। এই ভাষণের পর দলের করণীয় ও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া ঠিক করতে জরুরি বৈঠকে বসছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম— জাতীয় স্থায়ী কমিটি।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় এই বৈঠক ডাকা হয়েছে। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন।
আজ দুপুরে প্রধান উপদেষ্টা তাঁর ভাষণে জানিয়েছেন, জুলাই সনদের প্রস্তাবনা অনুযায়ী গণভোট নির্বাচনের দিনই অনুষ্ঠিত হবে। তবে, তিনি সংসদের উচ্চকক্ষ গঠনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ‘ভোটের অনুপাতে’ (Proportional Representation – PR) ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ গঠনের কথা বলেছেন। এ ছাড়াও, নির্বাচিত সংসদ ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করবে বলেও উল্লেখ করেছেন।
বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনের দিন গণভোট আয়োজনের বিষয়টিকে তারা প্রাথমিকভাবে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে, কারণ এটি বিএনপিরই দাবি ছিল। তবে, উচ্চকক্ষ গঠনের ক্ষেত্রে ‘ভোটের অনুপাত’ বনাম ‘আসনের অনুপাত’ নিয়ে বিএনপির ভিন্নমত ছিল। প্রধান উপদেষ্টা ভোটের অনুপাতের কথা বলায়, বিষয়টি নিয়ে দলের অবস্থান পরিষ্কার করতেই এই জরুরি বৈঠক।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “সন্ধ্যায় ৭টায় আমাদের দলের স্থায়ী কমিটির মিটিং হবে। তারপর আমাদের প্রতিক্রিয়া জানাবো।”
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, “নির্বাচনের দিন গণভোটের সময় নির্ধারণ করা— আপাতত এটা আমরা ইতিবাচকভাবে দেখছি। কিন্তু পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠন এবং পরবর্তী সংসদের ১৮০ দিনের মধ্যে সংস্কার সম্পন্ন করাসহ আরও কিছু বিষয় এসেছে। এগুলো নিয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনার পরই মন্তব্য করা হবে।”
বাংলাফ্লো/এফআইআর






