অর্থনীতি ডেস্ক
ঢাকা: দেশের পুঁজিবাজারের দীর্ঘদিনের তারল্য সংকট কাটাতে এবং ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় বড় ধরনের সংস্কারের সুপারিশ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয় গঠিত বিশেষ কমিটি। সম্প্রতি জমা দেওয়া এক প্রতিবেদনে পুঁজিবাজারে তারল্য বাড়াতে ১০ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল এবং ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য ৩ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন কমিটি সুপারিশ করেছে:
১. তারল্য সহায়তা তহবিল: ১০ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করা হবে, যা কেবল ইকুইটি বা শেয়ারে বিনিয়োগে ব্যবহৃত হবে। এর ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকবে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)।
২. ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী তহবিল: ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য ৪ শতাংশ সুদে মার্জিন ঋণ প্রদানের উদ্দেশ্যে বিশেষ তহবিলের আকার আরও ২ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে মোট ৩ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে বেশ কিছু কর প্রণোদনার সুপারিশ করা হয়েছে:
১ লাখ টাকা পর্যন্ত লভ্যাংশ আয় (Dividend Income) করমুক্ত রাখা।
মূলধনী আয় বা ক্যাপিটাল গেইনের মুনাফা কর কমিয়ে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা।
সম্পদ-সমর্থিত সিকিউরিটিজে ২০ শতাংশ কর রেয়াত এবং মিউচুয়াল ফান্ডের কর ছাড়ের মেয়াদ বাড়ানো।
প্রতিবেদনে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বর্তমান ২০ শতাংশ থেকে আগামী ১২ বছরে ৬০ শতাংশে উন্নীত করার রোডম্যাপ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ব্রোকারেজ হাউসগুলোকে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত করা, আইসিবি পুনর্গঠন এবং বিএসইসিকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
পুঁজিবাজারে অর্থের প্রবাহ বাড়াতে জাতীয় সঞ্চয়পত্র ও ডাকঘর সঞ্চয় প্রকল্পের সুদের হার যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছে কমিটি। এই হার যেন ৫ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বিলের গড় মুনাফার বেশি না হয়, সেদিকে নজর দিতে বলা হয়েছে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






