কান চলচ্চিত্র সংস্থার (Cannes Film Agency) ক্যাটালগ–এ স্থান পেয়েছে বাংলাদেশি নির্মাতা এনএইচ তুহিন পরিচালিত প্রামাণ্যচিত্র ‘বিয়ন্ড পিস: স্টোরি অব গুন্দাম’। বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র বাজার মর্শে দ্যু ফিল্ম–এর এই ক্যাটালগে অন্তর্ভুক্ত হওয়া বাংলাদেশের জন্য এক বড় অর্জন বলে মনে করছেন নির্মাতা।
প্রামাণ্যচিত্রটি মালির প্রত্যন্ত জনপদ গুন্দাম–এ কর্মরত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের সত্য কাহিনি তুলে ধরেছে। যারা যুদ্ধবিধ্বস্ত এক মরুভূমিকে পরিণত করেছেন জাতিসংঘ স্বীকৃত আফ্রিকার প্রথম সবুজ ক্যাম্পে।
কঠোর আবহাওয়া, পানির অভাব, নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি এবং নিঃসঙ্গতার মধ্যেও প্রকৃতি ও মানবতার প্রতি তাদের অনুরাগই চলচ্চিত্রটির মূল সুর বলে জানান নির্মাতা।
এনএইচ তুহিন তুহিন বলেন,‘বিয়ন্ড পিস: স্টোরি অব গুন্দাম’–এর কান চলচ্চিত্র সংস্থার ক্যাটালগে অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশের প্রামাণ্যচিত্রের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা। এটি শুধু আমাদের চলচ্চিত্রের নয়, বরং বাংলাদেশের গল্পকে বৈশ্বিক পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার একটি সুযোগ। মর্শে দ্যু ফিল্ম–এর মতো মর্যাদাপূর্ণ নির্বাচনে আমরা গর্বিত ও কৃতজ্ঞ।”
মালির গুন্দাম নিয়ে শুরুতে ৪-৫ মিনিটের একটা ডকুমেন্টেশনের ভাবনাই ছিলো নির্মাতার। কিন্তু পরে কীভাবে এটি পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রামাণ্যচিত্রে রূপ নিলো, এ বিষয়েও কথা বলেন তুহিন।
তিনি বলেন, “গুন্দাম — মালির একটি প্রত্যন্ত, যুদ্ধ বিধ্বস্ত জনপদ। ১৩ হাজার মাইল দূরের সেই অনুর্বর মরুভূমিতে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা যখন সবুজ গাছ লাগিয়ে ছিলো এবং শত শত পশু পাখির আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে একটুকরো নতুন জীবনের সৃষ্টি করেছিলেন। তখন থেকেই গল্পটা আমাকে টানছিলো। তবে ২০২৩ সালে, আমার প্রডিউসার সেখানে ছিলেন এবং তিনিই প্রথম আমাকে গল্পটা শেয়ার করেন। শুরুতে ধারণা ছিলো এটা বোধহয় একটা পূর্ণাঙ্গ সিনেমা হবে না, বড়জোর ৪-৫ মিনিটের একটা ডকুমেন্টেশন হবে।”
নির্মাতা বলেন,“এরপর যখন আমি মালি নিয়ে রিসার্চ করতে শুরু করলাম, তখন বেশ কিছু ইন্টারেস্টিং বিষয় লক্ষ করলাম। যেমন টেরোরিজম, নাগরিকদের দুঃখ দুর্দশা, ভোগান্তি এবং জাতীসংঘের প্রতি বিদ্বেষ মনোভাবসহ আরও বেশকিছু বিষয়। সবকিছু নিয়ে রিসার্চ করে এটাকে পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রামাণ্যচিত্রে রূপ দিতে পরে আর খুব বেশী বেগ পেতে হয়নি।”
শুটিং অভিজ্ঞতা নিয়ে তুহিন বলেন,“মালিতে তীব্র গরম, পানির অভাব, নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি- এরমধ্যে শুটিং করাটা খুবই ডিফিকাল্ট ছিল, তবে ক্যাম্পের মধ্যে শুট করাটা চ্যালেঞ্জিং ছিল না যতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল বাইরে শুট করা এবং গল্পের স্বার্থে বাংলাদেশে শুট করা। আমি বলব বাংলাদেশের শুট করাটা সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং ছিল।”
কান চলচ্চিত্র সংস্থার ওয়েব সাইটে ‘বিয়ন্ড পিস: স্টোরি অব গুন্দাম’ সম্পর্কে যে ভাষ্য রেখেছে, সেটা কিছুটা এরকম,“এই প্রামাণ্যচিত্রটি শুধু টিকে থাকার গল্প নয়— এটি আশা, একতা ও মানবতার জয়ের গল্প। যারা (বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী) পৃথিবীর সবচেয়ে প্রতিকূল পরিবেশেও জীবন ফিরিয়ে আনতে নিরলসভাবে কাজ করেছেন, তাদের গল্প দর্শকদের অনুপ্রাণিত করবে। শেষ পর্যন্ত চলচ্চিত্রটি মনে করিয়ে দেয় — যত কঠিন পরিস্থিতিই হোক না কেন, মানবতার স্পৃহা ও ভালোবাসা পৃথিবীতে সৌন্দর্য সৃষ্টি করতে পারে।”
এই প্রামাণ্যচিত্রের কেন্দ্রে আছে বেঁচে থাকা, অধ্যবসায় এবং মানুষ ও প্রকৃতির অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের গল্প। প্রামাণ্যচিত্রের চরিত্রদের মধ্যে আছেন বন্যপ্রাণী আলোকচিত্রী আনসার উদ্দিন খান পাঠান এবং ডা. রুমি।
‘বিয়ন্ড পিস: স্টোরি অব গুন্দাম’-এর প্রযোজক হিসেবে আছেন মুয়ীদ মোহাম্মদ রুবেল, নির্বাহী প্রযোজকের দায়িত্ব সামলেছেন তানিম ইউসুফ, চিত্রগ্রহণে আছেন ফারদিন এহসান ও শাখাওয়াত হোসেন।






