বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচন নিয়ে নাটকীয়তা যেন শেষই হচ্ছে না। নির্বাচনের একদিন আগেও কমেনি বিতর্ক। এছাড়া ঢাকার বেশিরভাগ ক্লাবই বিসিবি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে আছেন বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালও। এমনকি বিভিন্ন জেলা থেকে মনোনীত প্রার্থীরাও নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত ২০ জন সরে দাঁড়িয়েছেন। প্রার্থীদের সরে যাওয়া নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন না বিসিবির বর্তমান সভাপতি আমিনুল ইসলাম। তার মতে, ‘যারা নির্বাচন বয়কট করেছেন, তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার।’
সোমবার অনুষ্ঠিত হবে বিসিবি পরিচালনা পরিষদ নির্বাচন। তার আগেরদিন বিসিবিতে হাজির হয়েছিলেন বর্তমান সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। সেখানে মনোনয়ন প্রত্যাহার করা প্রার্থীদের নিয়ে এমন বলেন।
বলেছেন, ‘যে যে এখানে আসছে না বা বয়কট করেছে, তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন করতে যাচ্ছি। এর বাইরে কোনো কথা বলব না।’
নির্বাচনী কার্যক্রম শুরুর পর থেকে একাধিকবার অভিযোগ উঠেছে বিসিবি নির্বাচনে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ নিয়ে। এমনকি নির্বাচনে আমিনুল ইসলামকে ক্রীড়া উপদেষ্টা বাড়তি সহযোগিতা করছেন বলেও অভিযোগ আছে। এমন অভিযোগ অবশ্য মানছেন না আমিনুল।
বলেছেন, ‘আমার ঠিক মনে নেই, কবে আমি বলেছি ক্রীড়া উপদেষ্টা আমাকে অনুরোধ করেছেন বা ক্রীড়া উপদেষ্টা সহযোগিতা করেছেন। যে সময়সীমার মধ্যে আমি কাজ করছিলাম আর কী। এখানে তাকে আমি ধন্যবাদ দিতে চাই আরেকটা কারণে, তিনি একজন মন্ত্রী পদমর্যাদার মানুষ। আমি জানি রাত-বিরাত তিনি বিভিন্ন জায়গায় গেছেন। শুধু সুষ্ঠু নির্বাচন না, চেষ্টা করেছেন যেন ভালো বোর্ড তৈরি করতে পারি। এখানে আমার কাছে প্রভাবের কিছুই মনে হয়নি।’
‘আমার মনে হয়েছে যে, বাংলাদেশের ক্রিকেটের স্বার্থে আমাকে চালিয়ে যেতে হবে। যারা আমাকে ভোট দিচ্ছেন বা দেবেন না, কিংবা আপনারা যারা আছেন, যদি মনে করেন যে আমি যথেষ্ট যোগ্য নই, তবে আমি যে কোনো সময় সরে যেতে প্রস্তুত। তবে একই সঙ্গে আমার একটাই লক্ষ্য- বাংলাদেশ ক্রিকেট।’- যোগ করেন বুলবুল।
সরকারি হস্তক্ষেপসহ বিভিন্ন অভিযোগে মনোনয়ন প্রত্যাহার করা প্রার্থীরা এক সংবাদ সম্মেলনে শনিবার ঘোষণা দিয়েছিল, নির্বাচন না পেছানো হলে ৪৮টি ক্লাব কোনো ধরনের ক্রিকেটে অংশ নেবে না। বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন দিয়েছেন আমিনুল।
বলেছেন, ‘এই মুহূর্তে ক্লাবের বিকল্প নেই। ক্রিকেটে তাদের অবদান অনস্বীকার্য, মানে অবিশ্বাস্য অবদান আছে তাদের। তাদের ভূমিকা, প্রয়োজনীয়তা, অবদান-সবকিছুই আমরা তুলে ধরব। চেষ্টা করবো তাদেরকে মানানোর জন্য। ঘুরেফিরে আমরা তো একই সমাজের মানুষ, হয়তো পারব।’


