তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
ঢাকা: যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ টিকটকের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা যেন কাটছেই না। চীনা মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সের মার্কিন কার্যক্রম বিক্রির সময়সীমা আরও এক দফা বাড়তে যাচ্ছে। হোয়াইট হাউসের সূত্রমতে, আগামী মঙ্গলবার পঞ্চমবারের মতো এই সময়সীমা বাড়ানোর ঘোষণা দিতে পারেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে সম্ভাব্য মার্কিন বিনিয়োগকারীরা এখনই অ্যাপটি কিনতে পারছেন না, পড়ে আছেন অপেক্ষার প্রহরে।
টিকটক কিনতে আগ্রহী মার্কিন ধনকুবের ফ্র্যাঙ্ক ম্যাককোর্ট বিবিসিকে জানিয়েছেন, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সুযোগ এলেই সামনে এগোতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, “প্রয়োজনীয় অর্থ ইতিমধ্যেই সংগ্রহ করা হয়েছে। এখন সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।” ম্যাককোর্টের বিনিয়োগকারী দলে রেডিটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা অ্যালেক্সিস ওহানিয়ান এবং কানাডীয় বিনিয়োগকারী কেভিন ও’লিয়ারির মতো হাই-প্রোফাইল ব্যক্তিরা রয়েছেন। ম্যাককোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি চীনা প্রযুক্তি বা বিতর্কিত ‘রিকমেন্ডেশন অ্যালগরিদম’ ছাড়াই টিকটক চালাতে চান এবং তার ‘প্রজেক্ট লিবার্টি’ বিকল্প প্রযুক্তি তৈরি করেছে।
২০২৪ সালে মার্কিন কংগ্রেস একটি আইন পাস করে, যেখানে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে বাইটড্যান্সকে টিকটকের মার্কিন অংশ বিক্রি করতে বলা হয়, অন্যথায় অ্যাপটি নিষিদ্ধের কথা জানানো হয়। সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এতে স্বাক্ষর করেছিলেন এবং ২০২৫-এর শুরুতে সুপ্রিম কোর্টও আইনটি বহাল রাখে। বাইটড্যান্স ও টিকটক অবশ্য শুরু থেকেই তথ্য চুরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে দাবি করেছিলেন যে টিকটক বিক্রির বিষয়ে একটি সমঝোতা হয়েছে এবং এতে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্মতি রয়েছে। অক্টোবরে দুই নেতার বৈঠকের পর চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। চীন বা বাইটড্যান্স—কেউই বিক্রির অনুমোদনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কিছু জানায়নি। বিশ্লেষকদের ধারণা, দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় সময়সীমা বাড়ানো ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আপাতত কোনো বিকল্প নেই।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






