বাংলাফ্লো প্রতিবেদক
ঢাকা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে চোর সন্দেহে মানসিক ভারসাম্যহীন তোফাজ্জল হোসেনকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলায় ২৮ জনের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) দেওয়া অভিযোগপত্র (চার্জশিট) গ্রহণ করেছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলায় পলাতক ২২ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ঢাকার মহানগর হাকিম জুয়েল রানা এই আদেশ দেন।
পিবিআইয়ের দেওয়া এই অভিযোগপত্রে মোট ২৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে জালাল মিয়া, আল হোসেন সাজ্জাদ, মোত্তাকিন সাকিন শাহ ও সুমন মিয়া বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল শেখ ও ওয়াজিবুল আলম জামিনে মুক্ত আছেন। বাকি ২২ জন আসামি পলাতক থাকায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
প্রসিকিউশনের এসআই জিন্নাত আলী জানান, মামলার বাদী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের সুপারভাইজার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ এই অভিযোগপত্রের ওপর নারাজি (অনাস্থা) দেবেন বলে প্রথমে জানিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি কোনো নারাজি জমা না দেওয়ায় আদালত ২৮ জনের বিরুদ্ধেই অভিযোগপত্রটি আমলে নেন।
তোফাজ্জল হত্যার ঘটনায় শাহবাগ থানা পুলিশ প্রথমে ২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছিল। কিন্তু ‘তদন্ত সুষ্ঠু হয়নি’ দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নারাজি দিলে গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি আদালত পিবিআইকে মামলাটি পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হান্নানুল ইসলাম নতুন করে আরও ৭ জনকে যুক্ত করে মোট ২৮ জনের বিরুদ্ধে এই চূড়ান্ত অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে ফজলুল হক মুসলিম হলের অতিথি কক্ষে তোফাজ্জল হোসেনকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মারধরের আগে তাকে ভাত খাওয়ানো হয়েছিল। পরে রাত ১২টার দিকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বাংলাফ্লো/এফআইআর



