বাংলাফ্লো প্রতিবেদক
ঢাকা: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সই করা ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ চুক্তিটিকে দেশের ‘স্বার্থবিরোধী’ বলে আখ্যা দিয়েছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেছেন, নতুন সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানটি অত্যন্ত ইতিবাচক হলেও এই চুক্তিতে বাংলাদেশের অবস্থান সবার পেছনে। তাই দেশের স্বার্থ রক্ষায় অবিলম্বে এই চুক্তি বাতিল বা সংশোধন করা জরুরি।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বাংলাদেশ এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ওয়াচ গ্রুপ’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় নির্বাচনের ঠিক আগে (৯ ফেব্রুয়ারি) সই হওয়া এই চুক্তির বিভিন্ন নেতিবাচক দিক তুলে ধরে কড়া সমালোচনা করেন আলোচকরা।
চুক্তির ক্ষতিকর দিক ও বক্তাদের পর্যবেক্ষণ:
পোশাক খাত চরম ঝুঁকিতে: মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক বরকত উল্লাহ মারুফ জানান, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পর শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা ধরে রাখার কথা বলে এই চুক্তি করা হলেও এতে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে কী পরিমাণ পোশাক আমদানি করবে বা শুল্ক আরোপ করবে কি না, তার কোনো সুস্পষ্ট উল্লেখ নেই।
বাধ্যতামূলক আমদানি: চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিলিয়ন ডলারের মাছ, মাংস, কৃষিপণ্য, বোয়িং বিমান ও অস্ত্র আমদানি করতে বাধ্য থাকবে বলে অভিযোগ করা হয়।
অসম চুক্তি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোশাহিদা সুলতানা বলেন, এই চুক্তিতে বাংলাদেশের প্রাপ্তি বলতে কিছুই নেই। যা আছে, তা নানা ‘যদি-কিন্তু’ দিয়ে ভরা। অথচ অন্তর্বর্তী সরকার এটি সম্পন্ন করতে মরিয়া ছিল।
আইনি ব্যবস্থা ও জবাবদিহি: ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, দেশের স্বার্থবিরোধী এমন চুক্তি করা সুস্পষ্ট অপরাধ এবং এর সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনা উচিত। তিনি মনে করিয়ে দেন, চুক্তি সই হলেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাস্তবায়ন হয় না; সংবিধান অনুযায়ী এটি রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে জাতীয় সংসদে উত্থাপন করে পাসের বিধান রয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের রাষ্ট্রীয় চুক্তির ক্ষেত্রে গোপনীয়তা পরিহার করে উন্মুক্ত আলোচনার তাগিদ দেন তিনি।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






