আফগানিস্তানে সংবাদ সম্মেলনে নারী সাংবাদিকদের না রাখা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি বিষয়টিকে ‘কারিগরি সমস্যা’ বলে উল্লেখ করেছেন।
রোববার (১২ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে।
শুক্রবার (১০ অক্টোবর) আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রেস কনফারেন্সে কোনও নারী সাংবাদিক না থাকায় ভারতে বড় বিতর্কের সূত্রপাত হয়। ভারতীয় বিরোধী দল বিষয়টিকে ‘অগ্রহণযোগ্য এবং নারীদের প্রতি অপমান’ বলে অভিহিত করেছে।
সংবাদ সম্মেলন বিতর্ক শুরু হওয়ার দুই দিন পর রোববার (১২ অক্টোবর) আফগানিস্তান দূতাবাসে আরেকটি সংবাদ সম্মেলনে আফগান মন্ত্রী বলেন, ‘একটি সংক্ষিপ্ত নোটিশে সংবাদ সম্মেলনটি আয়োজন করা হয়েছিল। সংবাদ সম্মেলনে আমন্ত্রিত সাংবাদিকদের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা ছিল। এটি একটি কারিগরি সমস্যা ছিল, তবে অন্য কোনও সমস্যা ছিল না। আমাদের সহকর্মীরা একটি নির্দিষ্ট তালিকার সাংবাদিকদের কাছে আমন্ত্রণ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এর বাইরে অন্য কোনও উদ্দেশ্য ছিল না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আফগানিস্তানে আমাদের স্কুল এবং ইনস্টিটিউটে ১ কোটি শিক্ষার্থী রয়েছে, যার মধ্যে ২৮ লক্ষেরও বেশি নারী ও মেয়ে রয়েছে। আমাদের মাদ্রাসায় স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষা অব্যাহত থাকে। আমাদের কিছু সীমা রয়েছে, তবে আমরা কখনও নারী শিক্ষাকে ধর্মীয়ভাবে ‘হারাম’ ঘোষণা করিনি। এটি কেবল পরবর্তী আদেশ না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।’
মুত্তাকির পররাষ্টমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাথে বিস্তৃত আলোচনার কয়েক ঘন্টা পরে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী প্রেস কনফারেন্সে নারী সাংবাদিকদের অনুপস্থিতির জন্য ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘একটি পাবলিক ফোরাম থেকে নারী সাংবাদিকদের বাদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারতের প্রতিটি নারীকে বলছেন, নারীদের পক্ষে দাঁড়ানোর জন্য তিনি খুব দুর্বল।’
ভারতীয় প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পি চিদাম্বরম এক্স-এ বলেছেন, ‘আমি হতবাক যে আফগানিস্তানের আমির খান মুত্তাকির ভাষণে নারী সাংবাদিকদের বাদ দেওয়া হয়েছে। আমার ব্যক্তিগত দৃষ্টিতে, যখন দেখা গেল তাদের নারী সহকর্মীদের বাদ দেওয়া হয়েছে, অথবা আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, তখন পুরুষ সাংবাদিকদের ওয়াক আউট করা উচিত ছিল।’
সিপিআই (এম)-এর সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি নারী সাংবাদিকদের বাদ দেওয়াকে দুর্ভাগ্যজনক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ভারত সরকার তালেবানের নির্দেশ মেনে নিয়েছে।
এডিটরস গিল্ড অফ ইন্ডিয়া এবং ইন্ডিয়ান উইমেন প্রেস কর্পস (আইডব্লিউপিসি) এটিকে অত্যন্ত বৈষম্যমূলক বলে অভিহিত করেছে, যা ভিয়েনা কনভেনশনের অধীনে কূটনৈতিক সুবিধার ভিত্তিতে গ্রহণযোগ্য নয়।
এই সমালোচনার মধ্যে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানিয়েছে, সংবাদ সম্মেলন আয়োজনে তাদের কোনও ভূমিকা ছিল না।
মন্ত্রণালয় আফগান দূতাবাসের অঞ্চলটি ভারত সরকারের এখতিয়ারভুক্ত নয় উল্লেখ করে জানিয়েছে, সংবাদ সম্মেলনের আমন্ত্রণগুলো মুম্বাইতে আফগানিস্তানের কনসাল জেনারেলের নির্বাচিত সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো হয়েছিল, যারা আফগান মন্ত্রীর সফরের জন্য দিল্লিতে নিযুক্ত ছিলেন।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, ‘সংবাদমাধ্যমের সাথে আলাপচারিতায় সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্তটি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে থাকা তালেবান কর্মকর্তারা নিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।’
আফগানিস্তানে নারীদের অধিকার সীমিত করার জন্য কাবুলের তালেবান শাসন বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী জাতিসংঘের মতো সংস্থাগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছে।


