আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার এবং শিক্ষার্থীদের আশ্রয়ের আবেদন বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগের জেরে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের শিক্ষার্থীদের ভর্তির আবেদন গ্রহণ স্থগিত করেছে যুক্তরাজ্যের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়। ব্রিটেনের হোম অফিসের নতুন কঠোর নিয়ম এবং ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির অন্তত ৯টি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘ফিন্যান্সিয়াল টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ‘উচ্চ ঝুঁকির’ দেশগুলোর শিক্ষার্থী ভর্তিতে বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
ইউনিভার্সিটি অব চেস্টার: পাকিস্তান থেকে ২০২৬ সালের শরৎকাল পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি স্থগিত করেছে।
ইউনিভার্সিটি অব উলভারহ্যাম্পটন: পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে স্নাতক পর্যায়ের আবেদন নেওয়া বন্ধ রেখেছে।
ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট লন্ডন, সান্ডারল্যান্ড ও কভেন্ট্রি: এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে ভর্তি প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে।
অন্যান্য: ইউনিভার্সিটি অব হার্টফোর্ডশায়ার, অক্সফোর্ড ব্রুকস, লন্ডন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি এবং বিপিপি ইউনিভার্সিটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দুই দেশের শিক্ষার্থীদের আবেদন গ্রহণ বন্ধ রেখেছে।
হোম অফিসের নতুন নিয়ম ও পরিসংখ্যান: যুক্তরাজ্যের সীমান্ত নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ডেম অ্যাঞ্জেলা ঈগল সতর্ক করে বলেছেন, ভিসা ব্যবস্থা যেন ব্রিটেনে স্থায়ীভাবে বসবাসের “পেছনের দরজা” হিসেবে ব্যবহৃত না হয়। চলতি বছরের শুরুতে হোম অফিস ‘বেসিক কমপ্লায়েন্স অ্যাসেসমেন্ট’ (বিসিএ)-এর মানদণ্ডে পরিবর্তন এনেছে। নতুন নিয়মে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যানের হার ৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না (আগে ছিল ১০ শতাংশ)।
অথচ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছরে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার ছিল যথাক্রমে ২২ শতাংশ ও ১৮ শতাংশ, যা নতুন সীমার চেয়ে অনেক বেশি। প্রত্যাখ্যাত ২৩ হাজার ৩৬টি আবেদনের অর্ধেকই এই দুই দেশের শিক্ষার্থীদের।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সংকট: আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা বিশেষজ্ঞ ভিনসেঞ্জো রাইমো জানান, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর নির্ভরশীল কম ফি-নির্ভর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য এটি বড় সংকট। তবে ইউনিভার্সিটি অব সান্ডারল্যান্ড জানিয়েছে, তারা কঠোর অবস্থানের জন্য দুঃখিত নয়, কারণ ভিসা ব্যবস্থার সততা রক্ষা করা জরুরি।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






