ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলবর্তী অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে এবং ইসরায়েলের আরোপিত অবরোধ ভাঙতে নতুন করে যাত্রা করেছে আরও ১১টি জাহাজের বহর। প্রায় ২৪ লাখ ফিলিস্তিনির জীবনরক্ষার এই অভিযানে অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন দেশের শতাধিক মানবাধিকারকর্মী ও যাত্রী।
আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন (এফএফসি) জানিয়েছে, নতুন এই বহরের যাত্রা শুরু হয় ২৫ সেপ্টেম্বর ইতালির অটরান্টো বন্দর থেকে। প্রথমে ইতালীয় ও ফরাসি পতাকাবাহী দুটি জাহাজ যাত্রা শুরু করে, পরে ৩০ সেপ্টেম্বর ‘কনসায়েন্স’ নামে আরও একটি বড় জাহাজ তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়। শিগগিরই থাউজন্ড ম্যাডলিনস টু গাজা নামের আটটি ছোট নৌযানও এই বহরে যোগ দেবে, ফলে মোট ১১টি জাহাজ একসঙ্গে গাজার উদ্দেশ্যে রওনা দেবে।
এই বহরের অন্যতম বড় জাহাজ ‘কনসায়েন্স’-এ আছেন বাংলাদেশের খ্যাতিমান আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলম। শুক্রবার (৩ অক্টোবর) ফেসবুকে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, তাদের বহর ইতিমধ্যেই ফিলিস্তিনি টাইম জোনে প্রবেশ করেছে এবং শিগগিরই ছোট নৌযানগুলোও তাদের সঙ্গে যুক্ত হবে।
২০০৮ সাল থেকে এফএফসি গাজার মানবিক সংকট তুলে ধরতে এবং সহায়তা পৌঁছে দিতে একাধিক মিশন পরিচালনা করছে। অবরোধের কারণে গত প্রায় ১৮ বছর ধরে গাজার ২৪ লাখ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত, এবং গত দুই বছরে ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসন ও সর্বাত্মক অবরোধে খাদ্য সংকট ও দুর্ভিক্ষকে চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
ইসরায়েল অতীতেও গাজাগামী সহায়তা বহরে বাধা দিয়েছে। গত মাসের শুরুর দিকে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা নামে একটি বহরকে ইসরায়েলি নৌবাহিনী আটকে দিয়ে ৪৪টি জাহাজ এবং ৫০০ জনেরও বেশি কর্মীকে গ্রেপ্তার করে। পূর্ববর্তী অনেক মিশনেও সহায়তাবাহী জাহাজে হামলা, যাত্রী বহিষ্কার ও পণ্য জব্দের ঘটনা ঘটেছে।


