জেলা প্রতিনিধি লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানাধীন মান্দারী ইউনিয়নের গন্ধব্যপুর গ্রামের একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসার আবাসিক বিভাগে ৯ বছর বয়সী এক কোমলমতি শিক্ষার্থীকে দীর্ঘদিন ধরে যৌন নিপীড়নের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শিশুটির মায়ের দায়ের করা লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাওলানা ইব্রাহিম নামের এক অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। তবে এই ঘটনায় জড়িত অপর অভিযুক্ত ব্যক্তি এখনও পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই ওই দিন বিকেল চারটার দিকে গন্ধব্যপুর গ্রামের সংশ্লিষ্ট হাফেজিয়া মাদ্রাসায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মাওলানা ইব্রাহিমকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশ। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, আবাসিক বিভাগে থাকা ওই শিশু শিক্ষার্থীকে দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি পালাক্রমে যৌন নির্যাতন করে আসছিলেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা জানান, ছেলেকে পবিত্র কোরআনের হাফেজ বানানোর স্বপ্ন নিয়ে তিনি ওই মাদ্রাসার আবাসিক বিভাগে ভর্তি করিয়েছিলেন। ইতিমধ্যে তাঁর নয় বছরের শিশু সন্তান পবিত্র কোরআনের চার পারা হিফজ সম্পন্ন করেছে। কিন্তু মাদ্রাসার ভেতরেই দুই ব্যক্তির লালসার শিকার হয়ে শিশুটি চরম মানসিক ও শারীরিক ট্রমার মধ্যে পড়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িত দুই অপরাধীরই দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রব সাংবাদিকদের জানান, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মায়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মাওলানা ইব্রাহিমকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে এবং আটককৃত শিক্ষককে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি পলাতক অপর আসামিকেও দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান ওসি।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ












