বিনোদন ডেস্ক ঢাকা: বলিউড ইতিহাসের অন্যতম রোমান্টিক ও ক্লাসিক সিনেমা হিসেবে বিবেচিত ১৯৯৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘হাম দিল দে চুকে সানাম’। এই সিনেমার সেট থেকেই ভারতীয় চলচ্চিত্রের সবচেয়ে চর্চিত ও আবেগঘন জুটির একটি—সালমান খান ও ঐশ্বরিয়া রাইয়ের বাস্তব প্রেমের সূচনা হয়েছিল। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও এই জুটির পুরনো সম্পর্ক নিয়ে ভক্তদের কৌতূহল আজও অটুট। সম্প্রতি সেই কালজয়ী সিনেমার শুটিং চলাকালীন একটি অজানা ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এনেছেন প্রবীণ বলিউড অভিনেত্রী স্মিতা জয়কর, যিনি ছবিটিতে ঐশ্বরিয়ার মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন।
জনপ্রিয় উপস্থাপক সিদ্ধার্থ কাননকে দেওয়া এক অন্তরঙ্গ সাক্ষাৎকারে স্মিতা জয়কর স্মৃতিচারণ করে জানান, সিনেমার অবিস্মরণীয় রোমান্টিক গান ‘আঁখো কি গুস্তাখিয়া’-র দৃশ্যধারণের সময় ঘটনাটি ঘটেছিল। দৃশ্যটির কোরিওগ্রাফি ও স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী সালমানের কেবল একটি সুসজ্জিত খাবার টেবিলের চারপাশ ঘুরে ঐশ্বরিয়ার কাছে এসে দাঁড়ানোর কথা ছিল এবং মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাঁর চোখের দিকে তাকিয়ে থাকার নির্দেশনা ছিল। কিন্তু ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে আবেগ সংবরণ করতে না পেরে সালমান স্ক্রিপ্টের বাইরে গিয়ে আলতো করে ঐশ্বরিয়ার হাত স্পর্শ করেন।
স্মিতা জানান, দৃশ্যটির পরিকল্পনায় কোনো শারীরিক স্পর্শের সুযোগ না থাকায় বিষয়টি লক্ষ্য করেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বিখ্যাত পরিচালক সঞ্জয় লীলা বানসালি। তিনি কাট বলেই উচ্চস্বরে সালমানকে প্রশ্ন করেন, ‘সালমান, তুমি ওকে ছুঁলে কেন?’ বানসালির এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ধমকে সেটে কিছুক্ষণের জন্য পিনপতন নীরবতা নেমে আসে। স্মিতা বলেন, বানসালি সবসময় চরিত্রের নিখুঁত প্রকাশ চাইতেন, কিন্তু সালমানের এই আচরণ ছিল ঐশ্বরিয়ার প্রতি তাঁর হৃদয়ের সুপ্ত ভালোবাসার এক সহজাত ও স্বতঃস্ফূর্ত বহিঃপ্রকাশ।
সাক্ষাৎকারে স্মিতা জয়কর আরও প্রকাশ করেন যে, শুটিং চলাকালীন সালমান ও ঐশ্বরিয়া প্রায়শই একে অপরের সঙ্গে আড্ডায় মেতে থাকতেন এবং সকালে একসঙ্গে সেটে পৌঁছাতেন। কখনো কখনো সকাল ৭টার শিফটে অন্য কলাকুশলীরা অপেক্ষা করলেও তাঁরা বেলা ১১টায় পৌঁছাতেন। উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালে প্রেমে জড়ালেও ২০০২ সালে এক বেদনাদায়ক ও তিক্ত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে সালমান-ঐশ্বরিয়ার সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটে। পরবর্তীতে ২০০৭ সালে অভিষেক বচ্চনের সঙ্গে ঘর বাঁধেন ঐশ্বরিয়া এবং তাদের এক কন্যাসন্তান রয়েছে।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ









