লাইফ স্টাইল ডেস্ক ঢাকা: শরতের বিদায়লগ্নে কার্তিকের শুরুতেই প্রকৃতিতে লেগেছে পরিবর্তনের ছোঁয়া। ভোরে ঘাসের ডগায় জমে থাকা হালকা শিশিরবিন্দু এবং দূর দিগন্তে ভোরের স্নিগ্ধ কুয়াশার চাদর জানান দিচ্ছে দরজায় কড়া নাড়ছে শীত। এরই মধ্যে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে রাত ও ভোরের দিকে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি) জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বা বর্ষার প্রভাব বাংলাদেশ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পূর্ণ বিদায় নিয়েছে, যার ফলে দেশজুড়ে শীতের প্রারম্ভিক পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, মৌসুমি বায়ু বিদায় নেওয়ার কারণে বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে এবং উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে শুষ্ক ও শীতল বায়ুপ্রবাহ দেশে প্রবেশ করতে শুরু করেছে। ফলে আগামী কয়েকদিন দিন ও রাতের তাপমাত্রার মধ্যে ফারাক বাড়বে। বিশেষ করে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, নওগাঁ এবং শ্রীমঙ্গলের পাহাড়ি এলাকায় রাতের তাপমাত্রা ইতিমধ্যে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে আসতে শুরু করেছে, যা ভোরবেলায় হালকা গরম কাপড় গায়ে জড়াতে বাধ্য করছে স্থানীয়দের।
চলতি বছর শীতের তীব্রতা কেমন হতে পারে—এ প্রসঙ্গে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ প্যানেল জানিয়েছে, বৈশ্বিক জলবায়ুর ‘লা নিনা’ পরিস্থিতির অনুকূল প্রভাবের কারণে চলতি ২০২৬-২৭ মৌসুমে শীতের আগমন কিছুটা আগেভাগে হতে পারে এবং ডিসেম্বরের শেষার্ধ থেকে জানুয়ারি মাসজুড়ে দেশের ওপর দিয়ে তিন থেকে চারটি তীব্র ও মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল ও নদী অববাহিকায় ঘন কুয়াশার কারণে সূর্যের দেখা না মেলার প্রবণতা বেশি থাকবে।
ঋতু পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যের প্রতি বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। এ সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রার দ্রুত ওঠানামার কারণে সর্দি, কাশি, টনসিল ও অ্যালার্জির প্রকোপ বাড়তে পারে। তাই ভোরে ও রাতে বাইরে বের হলে হালকা চাদর বা ফুলহাতা পোশাক পরিধান করা এবং পর্যাপ্ত কুসুম গরম পানি ও মৌসুমি ফলমূল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য পুষ্টিবিদরা পরামর্শ দিয়েছেন।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ












