বাংলাফ্লো প্রতিবেদক
ঢাকা: কোনো জমির স্বত্ব ও মালিকানা নিয়ে একাধিক পক্ষের মধ্যে দেওয়ানি বিরোধ বিচারাধীন থাকলে সেই জমিকে অর্পিত সম্পত্তির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া বা অবমুক্ত করা যাবে না মর্মে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট করেছেন, উপযুক্ত দেওয়ানি আদালতে চূড়ান্তভাবে স্বত্ব নির্ধারিত হওয়ার পর রায়ে বিজয়ী পক্ষের অনুকূলেই কেবল বিতর্কিত সম্পত্তি অর্পিত সম্পত্তির তালিকা থেকে অবমুক্ত করা যাবে। ‘সাহাবুদ্দিন আহমেদ বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য’ মামলায় পৃথক দুটি রিট আবেদন নিষ্পত্তি করে বিচারপতি ফাতেমা নজীব এবং বিচারপতি এ. এফ. এম. সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ২২ পৃষ্ঠার এ পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ফরিদপুর জেলার ৭.২৩ শতাংশ জমিকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূচনা। জমিসংক্রান্ত বায়নাপত্র ও পরবর্তী রেজিস্ট্রিকৃত বিক্রয় দলিলের বৈধতা নিয়ে সাহাবুদ্দিন আহমেদ ও মো. জাহিদুর রহমানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দেওয়ানি মামলা ও আপিল চলমান রয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে হাইকোর্টে সিভিল রিভিশন হিসেবে বিচারাধীন। শুনানিতে রিট আবেদনকারী দাবি করেন, ১৯৯৬ সালে রেজিস্ট্রিকৃত দলিলের মাধ্যমে স্বত্ব অর্জনের পর থেকে তিনি জমিতে নিষ্কণ্টক ভোগদখলে আছেন। অন্যদিকে বিবাদী দাবি করেন, তাঁর বায়নাপত্র চুক্তি পূর্ববর্তী হওয়ায় আদালতের ডিক্রির মাধ্যমে তিনি বৈধ স্বত্ব পেয়েছেন।
আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, রিট এখতিয়ারের সংক্ষিপ্ত বিচারিক কার্যধারায় সম্পত্তির মালিকানা ও দলিলের বৈধতার জটিল প্রশ্ন নিষ্পত্তি করা সম্ভব নয়। তাই উপযুক্ত দেওয়ানি আদালতে স্বত্ব নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত সম্পত্তিটি বাদী বা বিবাদী কোনো পক্ষের অনুকূলেই অর্পিত তালিকা থেকে অবমুক্ত করা উচিত নয়। হাইকোর্ট ফরিদপুরের জেলা প্রশাসককে (ডিসি) নির্দেশ দেন, উচ্চ আদালতে বিচারাধীন আইনি লড়াইয়ে যে পক্ষের অনুকূলে জমির স্বত্ব চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে, কেবল সেই পক্ষের অনুকূলেই সম্পত্তিটি অবমুক্ত করতে হবে। এছাড়া বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জমিতে উভয় পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ









