আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: কারাবন্দী পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ইসলামাবাদে অবস্থিত শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিচারপতি শহীদ ওয়াহিদের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেন। পাকিস্তানের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯ অনুযায়ী মানুষের জীবন ও চিকিৎসাসেবার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, শিফা হাসপাতালে একটি বিশেষ মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হবে। এই বোর্ডে একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, একজন সাধারণ চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ, একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ, ইমরান খানের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ড. ফয়সাল সুলতান এবং তার বোন ড. উজমা খান যুক্ত থাকবেন। স্বাস্থ্য পরীক্ষার যাবতীয় খরচ ইমরান খানের পরিবারকেই বহন করতে হবে।
তবে এই রায়ের সঙ্গে বেশ কিছু কড়া শর্তও জুড়ে দিয়েছেন আদালত। শর্ত অনুযায়ী, হাসপাতালের মেডিকেল রিপোর্ট কোনোভাবেই সংবাদমাধ্যম বা জনসমক্ষে প্রকাশ করা যাবে না কিংবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে না। নিয়ম ভঙ্গ করলে এই চিকিৎসাসুবিধা বাতিল করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তার স্বার্থে হাসপাতালের আশপাশে কোনো ধরনের রাজনৈতিক জমায়েত বা বিক্ষোভ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
রায়ে আরও বলা হয়েছে, ইমরান খান এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে কারাগারে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন এবং তার ছেলেদের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সুযোগ পাবেন। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।
উল্লেখ্য, এর আগে কারা কর্তৃপক্ষ আদালতে দাবি করেছিল যে, কারাগারেই ইমরান খানকে পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে বিভিন্ন মেডিকেল রিপোর্টে তার মানসিক চাপ, রক্তচাপের সমস্যা এবং চোখের চিকিৎসার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছিল।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ









