বিনোদন ডেস্ক
ঢাকা: লাল-সবুজের বাংলায় চলমান চিত্রের ইতিহাস শতবর্ষ পেরিয়েছে। ১৯০১ সালের আগেই বাঙালি হীরালাল সেন বিভিন্ন নাটকের চিত্রগ্রহণ করে প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করেছিলেন। পরবর্তীতে ১৯২৭-২৮ সালের দিকে ঢাকার নবাব পরিবারের কয়েকজন তরুণ মিলে ‘সুকুমারী’ নামক একটি নির্বাক চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। তবে দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) প্রথম পূর্ণাঙ্গ সবাক চলচ্চিত্র হিসেবে ইতিহাস গড়ে ‘মুখ ও মুখোশ’।
১৯৫৬ সালের ৩ আগস্ট আবদুল জব্বার খান নির্মিত এই ঐতিহাসিক চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায়। আজ সেই ছবিটির ৭০ বছর পূর্ণ হলো। সেই হিসেবে আজ ঢাকাই সিনেমারও ৭০তম জন্মদিন! ৭০ বছর আগের এই দিনে ঢাকার রূপমহল সিনেমা হলে ‘মুখ ও মুখোশ’-এর শুভ উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক।
যে চ্যালেঞ্জ থেকে ‘মুখ ও মুখোশ’-এর জন্ম
এই চলচ্চিত্র নির্মাণের পেছনে রয়েছে এক অদম্য জেদ ও চ্যালেঞ্জের গল্প। ১৯৫৩ সালে পূর্ব পাকিস্তানে চলচ্চিত্র নির্মাণের সম্ভাবনা নিয়ে আয়োজিত এক সভায় বলা হয়েছিল, এ অঞ্চলের আর্দ্র আবহাওয়ায় চলচ্চিত্র নির্মাণ কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সেই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করে আবদুল জব্বার খান ঘোষণা দেন, তিনি নিজেই চলচ্চিত্র নির্মাণ করে দেখাবেন। সেই চ্যালেঞ্জ থেকেই অবশেষে বাস্তবে রূপ নেয় ‘মুখ ও মুখোশ’।
নির্মাণ ও নেপথ্যের গল্প
চিত্রনাট্য: কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলেও নিজের লেখা ‘ডাকাত’ নাটক অবলম্বনে ছবিটির চিত্রনাট্য তৈরি করেন আবদুল জব্বার খান।
কারিগরী সরঞ্জাম: কলকাতা থেকে আনা পুরোনো একটি আইমো ক্যামেরা ও সাধারণ একটি টেপরেকর্ডার দিয়ে শুরু হয় শুটিংয়ের কাজ।
শিল্পী সংগ্রহ: নারী শিল্পীর অভাবে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে চলচ্চিত্রের জন্য অভিনেত্রী খুঁজে নেওয়া হয়।
শুটিং স্পট: বুড়িগঙ্গার ওপারের কালীগঞ্জ, লালমাটিয়া, তেজগাঁও, জিঞ্জিরা ও টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে ছবিটির শুটিং সম্পন্ন হয়।
সম্পাদনা: ১৯৫৫ সালের ৩০ অক্টোবর শুটিং শেষ হওয়ার পর সম্পাদনা ও প্রিন্টের কাজ করা হয় লাহোরের শাহনুর স্টুডিওতে।
সংগীত ও কোরিওগ্রাফি: সিনেমার সংগীত পরিচালনা করেন সমর দাস। গানে কণ্ঠ দেন মাহবুবা হাসনাত ও আবদুল আলীম এবং নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন গওহর জামিল।
৭০ বছর পূর্তিতে আয়োজন ও প্রদর্শনী
‘মুখ ও মুখোশ’-এর ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে গতকাল চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে বাংলা চলচ্চিত্রের পোস্টার প্রদর্শনী। এতে স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের বিভিন্ন সময়ের উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের পোস্টার এবং ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত দর্শকনন্দিত সিনেমাগুলোর পোস্টার। উদ্বোধনী আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা কাজী হায়াৎ, মতিন রহমান, সোহেল আরমানসহ চলচ্চিত্রাঙ্গনের বিশিষ্টজনেরা।
এ ছাড়া ছবিটির ৭০ বছর উপলক্ষ্যে আজ সকালে এফডিসিতেও আলোচনা ও স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে। তবে সে অনুষ্ঠানের পোস্টারে ভুল থাকায় গতকাল থেকেই সমালোচনা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন চলচ্চিত্রের ১৯ সংগঠনের সম্মিলিত প্ল্যাটফর্মের মুখপাত্র জয় চৌধুরী।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ












