বিনোদন ডেস্ক
ঢাকা: বলিউডের নব্বই দশকের অন্যতম জনপ্রিয় ও সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেত্রী কারিশমা কাপুরের আজ জন্মদিন। ১৯৭৪ সালের ২৫ জুন জন্মগ্রহণ করা এই তারকা অভিনেত্রী আজ জীবনের ৫২তম বসন্তে পা রাখলেন। গ্ল্যামার, অভিনয় দক্ষতা আর নাচের ছন্দে একসময় রুপালি পর্দা কাঁপানো এই ‘লোলো’ খ্যাত তারকার জন্মদিন উপলক্ষে তাঁর ব্যক্তি ও কর্মজীবনের নানা জানা-অজানা অধ্যায় নিয়ে ভক্তদের মধ্যে উন্মাদনা আজও অমলিন। ছোট বোন কারিনা কাপুরের চেয়ে ছয় বছরের বড় কারিশমা একটা সময় পুরো বলিউড একাই শাসন করেছেন।
১৯৯১ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে ‘প্রেম কয়েদি’ সিনেমার মধ্য দিয়ে বলিউডে পা রাখেন কারিশমা কাপুর। এরপর আর তাঁকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। একে একে ‘জিগার’ (১৯৯২), ‘আনাড়ি’ (১৯৯৩), ‘আনদাজ আপনা আপনা’ (১৯৯৪), ‘রাজা বাবু’ (১৯৯৪) এবং ‘কুলি নং ১’-এর মতো ব্লকবাস্টার সব সিনেমা উপহার দিয়ে বক্স অফিসে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। বিশেষ করে বিখ্যাত নির্মাতা ডেভিড ধাওয়ানের সঙ্গে তাঁর জুটি ছিল দারুণ সফল; এই নির্মাতার পাঁচটি জনপ্রিয় কমেডি সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। ‘জুড়ুয়া’, ‘হিরো নং ১’, ‘বিবি নং ১’, ‘হাসিনা মান জায়েগি’ এবং ‘দুলহান হাম লে জায়েঙ্গে’-এর মতো সিনেমাগুলো তাঁকে জনপ্রিয়তার চূড়ায় নিয়ে যায়। পাশাপাশি ‘হাম সাথ-সাথ হ্যায়’ (১৯৯৯)-এর মতো পারিবারিক ড্রামাতেও তিনি দারুণ প্রশংসিত হন।
কেবল বাণিজ্যিক সিনেমাই নয়, অভিনয়শিল্পী হিসেবেও কারিশমা ছিলেন অনন্য। ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে ‘ফিজা’ (২০০০) ও ‘জুবেইদা’ (২০০১) সিনেমায় তাঁর অনবদ্য অভিনয়ের জন্য তিনি যথাক্রমে ফিল্মফেয়ারে সেরা অভিনেত্রী এবং সেরা অভিনেত্রী (সমালোচক) পুরস্কার ঘরে তোলেন। তাঁর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে একটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং চারটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননা যুক্ত হয়েছে।
পেশাগত জীবনে তুমুল সফল হলেও কারিশমার ব্যক্তিজীবন ছিল বেশ ঘটনাবহুল ও উত্থান-পতনে ভরা। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে (১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত) বলিউড তারকা অজয় দেবগনের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক তুমুল চর্চায় ছিল। এরপর ২০০২ সালে অমিতাভ বচ্চনের ছেলে অভিষেক বচ্চনের সঙ্গে তাঁর আংটিবদল হয়। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে কয়েক মাসের মাথায় সেই বাগ্দান ভেঙে যায়; যার সুনির্দিষ্ট কারণ আজও অজানা। পরবর্তীতে ২০০৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ব্যবসায়ী সঞ্জয় কাপুরকে বিয়ে করেন তিনি। এই দম্পতির সংসারে ২০০৫ সালে এক কন্যা ও ২০১০ সালে এক পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। তবে সেই সংসারও টেকেনি। দীর্ঘ টানাপোড়েন শেষে ২০১৬ সালে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে সঞ্জয় ও কারিশমার বিবাহবিচ্ছেদ চূড়ান্ত হয়।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ




