বাংলাফ্লো ডেস্ক
ঢাকা: অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে দেশের বিভিন্ন সেবা খাতে গত এক বছরে (নভেম্বর ২০২৪ থেকে অক্টোবর ২০২৫) সর্বমোট ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি ২০ লাখ টাকার ঘুষ লেনদেন হয়েছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘সেবা খাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫’-এর ফলাফল প্রকাশ করে সংস্থাটি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) নমুনাকাঠামো মেনে দেশের ১৮টি সুনির্দিষ্ট সেবা খাতের ওপর এই বিস্তারিত জরিপ পরিচালনা করা হয়।
জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, সরকারি সেবা খাতগুলোর মধ্যে দুর্নীতির শীর্ষে রয়েছে পাসপোর্ট অফিস ও বিআরটিএ। পাসপোর্ট সেবায় সর্বোচ্চ ৮৪ দশমিক ৪ শতাংশ গ্রাহক দুর্নীতি এবং ৭৬ দশমিক ৬ শতাংশ গ্রাহক সরাসরি ঘুষের শিকার হয়েছেন। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বিআরটিএ-তে দুর্নীতির হার ৭৯ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ঘুষের হার ৬৩ দশমিক ৫ শতাংশ। এরপরই রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, কৃষি, ভূমি ও বিচারসংশ্লিষ্ট সেবা। তবে সার্বিকভাবে একটি ইতিবাচক দিক হলো, ২০২৩ সালের তুলনায় পরিবারপ্রতি গড় ঘুষের পরিমাণ প্রায় ১০ শতাংশ কমে বর্তমানে ৫ হাজার ১২৪ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
জরিপে অংশ নেওয়া ৮১ দশমিক ৫ শতাংশ পরিবারের মতেই, ঘুষ ছাড়া সরকারি সেবা পাওয়া একপ্রকার অসম্ভব। দুর্নীতির শিকার হলেও ৬১ দশমিক ৩ শতাংশ পরিবার কোনো অভিযোগই করেনি; কারণ তাদের মতে পুরো ব্যবস্থাই দুর্নীতিগ্রস্ত। অভিযোগ করার সঠিক প্রক্রিয়া কিংবা দুদক সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা বেশ কম।
প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, গ্রামাঞ্চলের মানুষ শহরের তুলনায় বেশিবার ঘুষের শিকার হলেও (৬৬% বনাম ৫৮.৫%), টাকার অঙ্কে শহরের পরিবারগুলোকেই বেশি ঘুষ গুনতে হয়। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবার, নারী, আদিবাসী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য এই পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি কঠিন। সেবা খাতে ডিজিটালাইজেশনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরতা এখনো থাকায় ঘুষ ও দুর্নীতির সুযোগ থেকেই যাচ্ছে বলে মনে করছে টিআইবি।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






