বিনোদন ডেস্ক
ঢাকা: বিশিষ্ট গণসংগীতশিল্পী, গীতিকার ও সংগীত শিক্ষক কামরুদ্দীন আবসার আর নেই। শনিবার (৩০ মে) রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। গত ১৭ দিন ধরে তিনি ওই হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন তার ছেলে আদনান মুকিত দীপ্র।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আগামী সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রয়াত এই শিল্পীর মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে। এরপর বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে এবং জানাজা শেষে দাফন সংক্রান্ত পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে। জানা গেছে, ২০১১ সালে স্ট্রোক করার পর কামরুদ্দীন আবসারের শরীরের বাম পাশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি শারীরিক জটিলতায় ভুগলেও স্বাভাবিকভাবে কথাবার্তা ও খাওয়া-দাওয়া করতে পারতেন। তবে সম্প্রতি শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল।
১৯৫৪ সালের ১৫ নভেম্বর কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে জন্মগ্রহণ করেন কামরুদ্দীন আবসার। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) সংগীত ও পরিচালনা বিভাগে সহকারী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করলেও তার মূল পরিচিতি গড়ে ওঠে গণসংগীতের জগতে। ‘চল রে ভাই, উজান বেয়ে যাই’, ‘আমি কোনো ভালোবাসার গল্প জানি না, যেটুকু জেনেছি সবটুকুই যুদ্ধের’ এবং ‘তোমরা যদি বলো ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখা যায়, আমি মানবো না’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গণসংগীত পরিবেশন করেছেন তিনি। তার প্রকাশিত অ্যালবামের মধ্যে ‘মে দিবসের গান’ এবং ‘বাংলার কমরেড বন্ধু’ অন্যতম। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ফেরদৌসী বেগম এবং একমাত্র ছেলে আদনান মুকিত দীপ্রসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ






